দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করায় প্রথম স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৮:৪১ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০২০

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে চাহিদামতো যৌতুক না পেয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, তিনি প্রথম স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন।

রোববার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রথম স্ত্রী ফাতেমা আক্তার রুমি সাংবাদিকদের কাছে তার স্বামী সাদ্দামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন। এর আগে বিকেলে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ফজুমিয়ার হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত সাদ্দাম ফজুমিয়ার হাট এলাকার মো. সেলিমের ছেলে। আহত গৃহবধূ ফাতেমা নোয়াখালীর সদর উপজেলার ওদারহাট এলাকার আনিছুল হকের মেয়ে। তিনি স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পারিবারিকভাবে পাঁচ বছর আগে সাদ্দাম ও ফাতেমার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সাথী আক্তার নামে চার বছরের এক মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই সাদ্দাম তার স্ত্রীর কাছ থেকে যৌতুক হিসেবে টাকার জন্য চাপ দেন। মেয়ের সুখের কথার চিন্তা করে বাবা আনিছুল হক বিভিন্ন সময় তাকে টাকা দেন। সম্প্রতি সাদ্দাম বাবার বাড়ি থেকে আবার টাকা এনে দিতে ফাতেমাকে চাপ দেন। কিন্তু ফাতেমা তার বাবাকে টাকার কথা জানাননি। এতে গত ১০ দিন আগে তার অনুমতি না নিয়েই অন্য এক নারীকে বিয়ে করেন সাদ্দাম।

প্রতিবাদ করলে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক না আনলে ফাতেমাকে তালাকের হুমকি দেন সাদ্দাম। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাদ্দাম লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি তাকে পেটাতে থাকেন। পরে মেয়েসহ বাড়ি থেকে তাকে তাড়িয়ে দেন তিনি।

ফাতেমা আক্তার রুমি বলেন, ‘যৌতুক না দেয়ায় বিভিন্ন সময় সাদ্দাম আমাকে মারধর করেন। এখন অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করেছেন। আমাকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বলেন। এতে প্রতিবাদ করায় মেয়েসহ আমাকে পিটিয়ে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও স্বামী সাদ্দামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ নুরুল আবছার বলেন, ঘটনাটি কেউ পুলিশকে জানায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কাজল কায়েস/এসআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।