দলিল লেখকের বিরুদ্ধে জমির খতিয়ান-খাজনা রশিদ জালিয়াতির অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৯:৩৩ এএম, ২৪ নভেম্বর ২০২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় জমির খতিয়ান ও খাজনা রশিদ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে এক দলিল লেখকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দলিল লেখক মো. সালাহ উদ্দিন ও জমির প্রথম এবং দ্বিতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নাসিরনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গত ১৯ আগস্ট নাসিরনগর উপজেলার সাব রেজিস্ট্রার মো. মিজাহারুল ইসলাম এ অভিযোগ দায়ের করেন।

তবে ওই দলিল লেখকের দাবি, তিনি জালিয়াতির সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। সাব রেজিস্ট্রার তার নিজের অপকর্ম ঢাকতেই মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর নাসিরনগর সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের দলিল লেখক মো. জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে একটি বিনিময় দলিল (দলিল নম্বর- ৬১৯৩) রেজিস্ট্রি করা হয়।

পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর জসিমের করা একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) মারফত ওই দলিলের কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে জানা যায় দলিলের প্রথম পক্ষ নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক ইউনিয়নের গুনিয়াউক গ্রামের মৃত আলী রাজার ছেলে মো. সাহাব উদ্দিন ও দ্বিতীয় পক্ষ একই গ্রামের মৃত একেএম মঈন আলীর স্ত্রী মোছাম্মৎ সাবিনা ইয়াসমিন এবং দলিল লেখক সালাহ উদ্দিনের পরস্পর যোগসাজসে বিএস খতিয়ান এবং খাজনা রশিদ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য গোপন করে দলিল লেখক মো. জসিম উদ্দিনকে দিয়ে দলিলটি রেজিস্ট্রি করান।

রেজিস্ট্রিকৃত ভূমিটি ওয়াকফ স্টেটের। অভিযুক্ত মো. সাহাব উদ্দিন, মোছাম্মৎ সাবিনা ইয়াসমিন ও মো. সালাহ উদ্দিন প্রতারণা করে অসৎ উদ্দেশ্যে সরকারি স্বার্থ ক্ষুণ্নের উদ্দেশ্যে জায়গাটি রেজিস্ট্রি করান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ব্যাপারে নাসিরনগর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার মো. মিজাহারুল ইসলাম বলেন, আমাদের এক দলিল লেখক জালিয়াতির বিষয়ে থানায় জিডি করেছেন। এর প্রেক্ষিতে আমি থানা পুলিশকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি।

তবে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে দলিল লেখক মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, আমাকে ফাঁসানোর জন্যই তিনি (সাব রেজিস্ট্রার) এই মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তিনি কয়েক লাখ টাকা নিয়ে তিনটি ওয়াকফ স্টেটের সম্পত্তির দলিল করেছেন। এসব কাজ আমি কখনোই করিনি। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন আমি এই কাজ করেছি, তাহলে যেকোনো বিচার মাথা পেতে নেব।

তিনি বলেন, এটার সাথে আমার বিন্দু পরিমাণ সম্পৃক্ততা নেই। এ বিষয়ে আমি পত্রিকায় আরও আগেই বিবিৃতি দিয়েছি। এটার সাক্ষী, শনাক্তকারী বা দলিল লেখকও আমি না।

এ ব্যাপারে নাসিরনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিচুল হক বলেন, সাব রেজিস্ট্রারের করা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]