ভরসা কেবল ঘোড়ার গাড়ি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ১২:১০ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০

পদ্মা নদীর পানি অতিরিক্ত মাত্রায় কমে যাওয়ায় লঞ্চ ও ট্রলারে যাত্রী পারাপারের সুবিধার্থে রাজবাড়ীর জৌকুড়া ঘাটটি মূল স্থান থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার সরিয়ে পদ্মার চরে অস্থায়ীভাবে বসানো হয়েছে। যেখানে যাওয়ার জন্য নেই কোনো সংযোগ সড়ক। ফলে পদ্মার চরের বালুর মধ্যে দিয়ে এলোমেলোভাবে হেঁটে ও ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে চলাচল করছেন যাত্রী ও সাধারণ জনগণ। যাত্রীদের ঘাটে আসা-যাওয়ার এখন একমাত্র বাহন ঘোড়ার গাড়ি।

পদ্মার নাব্য সংকটে দীর্ঘ প্রায় আট মাস ধরে বন্ধ রয়েছে রাজবাড়ী ধাওয়াপাড়ার জৌকুড়া টু পাবনা নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা পারাপার হচ্ছেন ফিটনেস বিহীন ছোট লঞ্চ ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে।

Rajbari-(1).jpg

এ রুটে চলাচলকারী লঞ্চ ও ট্রলারের টিকিটের মূল্য বেশি বলেও অভিযোগ যাত্রীদের। এছাড়া চরের ওপর দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঘাটে যাতায়াতে যাত্রীদের নিরাপত্তার শঙ্কাও রয়েছে।

জানা গেছে, রাজবাড়ী ধাওয়াপাড়ার জৌকুড়া টু পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌরুট দিয়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট কয়েকটি বাসসহ অন্যান্য যানবাহন ও কয়েক হাজার যাত্রী পারাপার হয়। কিন্তু করোনা ও নাব্য সংকটের কারণে এরুটে দীর্ঘ প্রায় ৮ মাস ধরে বন্ধ ফেরি চলাচল।

jagonews24

এছাড়া নদীর পানি কমে যাওয়ায় মূল ঘাটটি দুই কিলোমিটার দূরে পদ্মার চরে অস্থায়ীভাবে সরানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে যাত্রীদের কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। দীর্ঘ এ পথে কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। ফলে দীর্ঘ এ পথে ঘোড়ার গাড়িতে জনপ্রতি ১০টাকায় আনা-নেয়া করা হচ্ছে।

ঘাট ইজারাদারের মাধ্যমে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় লঞ্চ ও ট্রলার ছেড়ে যায় নাজিরগঞ্জের উদ্দেশে এবং যাত্রীদের থেকে ভাড়া নেয়া হচ্ছে জনপ্রতি ৬০ টাকা। এ রুটে সড়ক বিভাগের অধীনে তিনটি ফেরি এবং ইজারাদারের মাধ্যমে লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল করে।

Rajbari-(1).jpg

যাত্রীরা বলেন, নদীর পানি কমে যাওয়ায় ঘাট আগের স্থান থেকে দূরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু ঘাটে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। চরের বালুর মধ্যে দিয়ে হেঁটে অথবা ঘোড়ার গাড়িতে করে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে। এতে তাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। ঘোড়ার গাড়িই এখন তাদের একমাত্র ভরসা।

এছাড়া ট্রলারের ভাড়া ৬০ টাকা করে নিচ্ছে, যা তাদের কাছে বেশি। ঘাটে আসা-যাওয়ার জন্য ভালো রাস্তা অথবা নদীর নাব্য সংকট দূর করে ঘাটটি আগের স্থানে নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান যাত্রীরা।

স্থানীয় সিরাজুল ইসলাম সিরাজসহ কয়েকজন বলেন, করোনা মহামারি ও নাব্য সংকটে প্রায় ৮ মাস ফেরি চলাচল বন্ধ। তবে লঞ্চ ও ট্রলার চলাচলের জন্য মূল স্থান থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ঘাটের ব্যবস্থা করলেও যাত্রীদের ঘাটে আসা যাওয়া করতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রাস্তা নেই, শুধু বালু আর বালু। হেঁটে চলাচল অনেক কষ্ট। তাই যাত্রীরা ঘোড়ার গাড়িতে আসা-যাওয়া করছেন। প্রায় ১ ঘণ্টা লাগে ঘাটে যেতে।

Rajbari-(1).jpg

ঘোড়ার গাড়ির চালক আশিক বলেন, বালুর ভেতর দিয়ে চলাচল করা খুব কষ্ট। ৭ থেকে ৮ জন যাত্রী নিয়ে তারা আসা-যাওয়া করছেন। এতে ঘোড়ারও অনেক কষ্ট হয়। তারপরও কিছু অর্থ আয়ের জন্য ৮ থেকে ১০টি ঘোড়ার গাড়ি চলাচল করছে। প্রতিজন যাত্রী থেকে ভাড়া হিসেবে ১০ টাকা করে নেন তারা।

জৌকুড়া ঘাট ইজারাদারের পক্ষে আব্দুল লতিফ বিশ্বাস বলেন, রাজবাড়ী ও পাবনার সহজতর যোগাযোগ মাধ্যম জৌকুড়া ও নাজিরগঞ্জ নৌরুট। নদীতে পানি কমে যাওয়ায় এ রুটে প্রায় ৯ মাস ফেরি চলাচল বন্ধ। যেখানে ঘাট ছিল সেখানে এখন বালুর চর। তাই লঞ্চ ও ট্রলার চলাচলের জন্য দুই কিলোমিটার ভেতরে পদ্মার চরে অস্থায়ীভাবে ঘাট বসানো হয়েছে। তবে যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কেবিএম সাদ্দাম হোসেন বলেন, এ নৌপথটি রাজবাড়ীর সঙ্গে পাবনার অন্যতম যোগাযোগ পথ। নাব্য সংকটে এ রুটে দীর্ঘদিন ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করতে নতুন রুট তৈরির চেষ্টা করছেন। বর্তমানে এ রুটে নতুন আরেকটি ফেরিসহ মোট ৩টি ছোট ফেরি রয়েছে।

রুবেলুর রহমান/এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]