লাইনচ্যুত বগি থেকে তেল নিতে ডেকচি-বালতি-মগ নিয়ে ছুটছে মানুষ
হবিগঞ্জের মাধবপুরে শাহজীবাজার রেলস্টেশনে একটি তেলবাহী ট্রেনের পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস শ্রীমঙ্গল স্টেশনে এবং ঢাকাগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ভানুগাছ স্টেশনে আটকা পড়ছে।
ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনেও একই চিত্র। কখন ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে হতাশায় রয়েছেন যাত্রীরা।
জয়ন্ত্রিকা এক্সপ্রেসে ঢাকা যাওয়ার জন্য রেলস্টেশনে পরিবার নিয়ে এসেছেন মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। তিনি স্টেশনে এসে জানতে পেরেছেন, ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে রেল যোগাযোগ বন্ধ।
মিজানুর রহমান চিকিৎসার জন্য ঢাকা যাচ্ছিলেন। কিন্তু এ দুর্ঘটনার কারণে তিনি সময়মতো ঢাকা পৌঁছাতে পারবেন না। কখন ট্রেন ছাড়বে তা-ও জানেন না। এত দীর্ঘসময় পরিবার-পরিজন নিয়ে স্টেশনে কীভাবে সময় কাটাবেন তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
রোববার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা শ্রীমঙ্গলগামী তেলবাহী ট্রেনটি শাহজীবাজার রেলস্টেশন এলাকায় বেলা ১২টার দিকে লাইনচ্যুত হয়।
তেলবাহী বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় তেল ছড়িয়ে পড়েছে রেললাইনে ও আশপাশে। এই তেল সংগ্রহ করতে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। যে যেভাবে পারছেন তেল সংগ্রহ করছেন। কেউ বালতিতে করে কেউ গ্লাসে-মগে আবার কেউ ডেকচি নিয়ে ছুটছেন তেল সংগ্রহের জন্য। রীতিমতো সেখানে তেল সংগ্রহের আমেজ চলছে।

রেললাইন মেরামত কাজের দায়িত্বে থাকা শেখ মো. হাসান জানান, শতশত নারী-পুরুষ তেল সংগ্রহ করছেন।
বালতি দিয়ে তেল নিচ্ছিলেন কামাল মিয়া নামের এক যুবক। তিনি বলেন, তেল গাড়ি থেকে পড়ছে তাই নিচ্ছি। না নিলেও তো নষ্ট হবে।
তেল সংগ্রহকারী খাদিজা খাতুন জানান, আমি এক কলসি তেল নিছি। তবে এটা কি তেল তা জানি না। সবাই নিতাছে তাই আমিও নিলাম।
তাদের মতো শতশত নারী-পুরুষ লাইনচ্যুত বগি থেকে তেল সংগ্রহ করছেন।
শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মুশফিক উদ্দিন বলেন, তেলবাহী ট্রেনের পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর সাধারণ মানুষ তেল সংগ্রহ করছেন।
তিনি আরও জানান, প্রতি বগিতে ১০ হাজার লিটার ডিজেল ছিল। সে হিসেবে পাঁচটি বগিতে ৫০ হাজার লিটার ডিজেল ছিল।
কামরুজ্জামান আল রিয়াদ/এসআর/পিআর