রায়পুরে ছাত্রী তন্নি অপহরণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদরাসাছাত্রী রেশমা আক্তার তন্নিকে (১৯) অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মো. রনি নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাড়ি থেকেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
থানা পুলিশ জানায়, এর আগে সোমবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে অপহৃত ছাত্রীর মা তাসলিমা আক্তার তিনজনের নাম উল্লেখ ও ৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে রায়পুর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। অপহৃত তন্নি উপজেলা সোনাপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের আব্বাছ উদ্দিনের মেয়ে। গ্রেফতার রনি একই গ্রামের শাহজাহান খন্দকারের ছেলে।
জানা গেছে, তন্নি রায়পুর আলিয়া মাদাসার আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্রী। প্রায় ১ বছর আগে উপজেলা বামনী গ্রামের প্রবাসী মো. রাসেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। গত ৮ সেপ্টেম্বর তন্নি স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি সোনাপুর গ্রামে বেড়াতে আসে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে তন্নি প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হয়।
এ সময় আগ থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আসামিরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার ১০ দিন পর জীবন নামের ইমো আইডি থেকে তন্নির ভাই তুহিনের আইডিতে এসএমএস পাঠায়। এতে তন্নির জন্মসনদ ও ছবি দিতে বলা হয়। এর দুইদিন পর আবার একটি ভিডিও পাঠানো হয়।
এসব ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্যদের জানালে তারা ঘটনাটি সমাধান করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ঘটনার ১ মাস ২৫ দিন পার হলেও তন্নিকেও উদ্ধার করা যায়নি। এ অবস্থায় তাকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে মা তাসলিমা আক্তার মামলা দায়ের করেন।
তন্নির মামা আবু বকর সিদ্দিক জানান, তন্নিকে অপহরণের ঘটনায় ২০ নভেম্বর পুলিশ রনি, তার বোন পান্না বেগম ও ভগ্নিপতি ফিরোজকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন ১৫ দিনের মধ্যে তারা তন্নির সন্ধান দেবে বলে মুচলেকা দেয়। পরে সোনাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ জালাল কিসমতের জিম্মায় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সময় পার হয়ে গেলেও তন্নির সন্ধান তারা দিতে পারেনি।
এ ব্যাপারে রায়পুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাফায়েত উল্লাহ বলেন, মামলার প্রধান আসামি রনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। অন্য আসামিদের গ্রেফতার ও তন্নিকে উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
কাজল কায়েস/এমআরএম