বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের নামে নির্মিত স্থাপনার বেহাল দশা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০৫:২২ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০২০

আজ ১০ ডিসেম্বর। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মো. রুহুল আমিনের ৪৯তম শাহাদাতবার্ষিকী। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ স্মরণ করছেন এ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। স্বাধীনতার ৪৯ বছরের মধ্যে এ বীরের নামে নির্মিত গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরসহ নানা স্থাপনা নির্মিত হলেও বর্তমানে সেগুলো নানা সমস্যায় জর্জরিত। ফলে যে লক্ষ্যে এসব স্থাপনা করা হয়েছে তা ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলছে।

শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রশাসন ও স্মৃতি জাদুঘর সংসদের উদ্যোগে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিনের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, কোরআন খতম ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিনা পাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

jagonews24

১৯৩৪ সালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের বাগআঁচড়া গ্রামে জন্ম রুহুল আমিনের। মুক্তিযুদ্ধের গোটা সময় তিনি জীবনবাজি রেখে লড়েছেন শত্রুদের বিরুদ্ধে। চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র ছয়দিন আগে এ দিনে খুলনার রূপসায় শাহাদাতবরণ করেন তিনি।

তার সম্মানে সরকার বাগআঁচড়া গ্রামকে রুহুল আমিননগর নামে নামকরণ করা হয়। এছাড়া তার অবদানকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে তার জন্মস্থানে ২০০৮ সালে শহীদ মো. রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর খোলা রাখা হয় না এবং পরিচর্যাও করা হয় না। লাইব্রেরিতে নতুন বই সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি পত্রিকা দেয়াও বন্ধ রয়েছে কয়েক বছর ধরে। এছাড়া এর ব্যবস্থাপনা নিয়েও সবার মাঝে রয়েছে চরম ক্ষোভ।

jagonews24

তারা জানান, রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের প্রধান ফটকে বেশির ভাগ সময় তালা ঝুলে থাকে। যে কারণে অনেক দর্শনার্থী এসে জাদুঘর না দেখেই ফিরে যান।

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের নাতি সোহেল চৌধুরী জানান, বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় জর্জরিত তার নানার নামের স্থাপনাগুলো। প্রশাসনকে বিষয়টি অনেকবার অবগত করা হলেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

পাশাপাশি রুহুল আমিননগর হিসেবে নামকরণ করা গ্রামের রাস্তাঘাট ও তার নামের প্রতিষ্ঠানগুলোরও বেহাল অবস্থা। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে এলাকাবাসীর। তাদের অভিযোগ, রুহুল আমিনের নামকরণে মাদরাসা থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কেউ কোনো দান অনুদান দেয় না। সবার ধারণা, এগুলো যেহেতু বীরশ্রেষ্ঠের নামকরণে করা হয়েছে সরকার সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। আসলে তা ঠিক নয়।

jagonews24

এদিকে নৌবাহিনীর উদ্যোগে ২০১৮ সালে রুহুল আমিনের ছোট ছেলে শওকত আলীর থাকার জন্য প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি পাকা ভবন পুনর্নির্মাণ করে দেয়। বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আামিনের ছেলে শওকত আলী তার বাবার কবরটি খুলনার রূপসা নদীর পাড় থেকে এনে জন্মস্থানে আবার কবর দেয়ার দাবি জানান সরকারের কাছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, মো. ইউনুস মাস্টার ও বেগমগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বাঙালী জানান, একজন বীরশ্রেষ্ঠের নামের স্থাপনাগুলোতে এরকম অবমাননা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

গত বছর এ দিনে নোয়াখালী জেলা তৎকালীন জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন জাদুঘর ও গ্রন্থাগারের বিদ্যমান সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেছিলেন, নৌবাহিনীর উদ্যোগে একটি ট্রাস্ট করার আলোচনা চলছে। ট্রাস্টের আওতায় এ জাদুঘর ও গ্রন্থাগার চললে, কোনো সমস্যা হবে না। পাশাপাশি চৌমুহনীর চৌরাস্তায় তার নামে করা স্কয়ারটিতে চার লেনের কাজ শেষে হলে নতুন আঙ্গিকে আবার দৃষ্টিনন্দনভাবে এটি তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মিজানুর রহমান/এসএমএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।