আদালতের দিকে চেয়ে আছেন সিনহার বোন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৬:৫৮ পিএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০২০

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের পর আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

রোববার (১৩ ডিসেম্বর) আদালতে দাখিলকৃত চার্জশিটের বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এমনটি জানান।

সিনহার বড় বোন বলেন, আমি কক্সবাজারের ততকালীন পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনকে সিনহা হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করতে আবেদন করিনি। আমার আবেদন ছিল ওনার (এসপি) দায়িত্ব অবহেলা এবং বিতর্কিত বক্তব্য প্রচারের জন্য অভিযুক্ত করা।

তিনি আরও বলেন, চার্জশিট এখনো হাতে পাইনি। তবে, বিভিন্ন মাধ্যমে যতটুকু খবর পেয়েছি, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসপির দায়িত্ব অবহেলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এমনটি হয়ে থাকলে পরবর্তী ব্যবস্থা আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে নেবেন বলে আমার বিশ্বাস। এখন আদালতের নির্দেশনার দিকেই আমি চেয়ে আছি।

উল্লেখ্য, ৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের দিকে আসার পথে বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে তল্লাশির নামে গাড়ি থেকে নামিয়ে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন ও নিরাপত্তা বিভাগ। একইভাবে তদন্তের স্বার্থে টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলিসহ ১৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।

এদিকে, ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে।

টেকনাফ থানার ওসি (বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার দাশকে করা হয়েছে দুই নম্বর আসামি। মামলার তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে টেকনাফ থানার এসআই দুলাল রক্ষিতকে। এরপর অভিযুক্ত সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তদন্তে নেমে র্যাব হত্যার ঘটনায় স্থানীয় তিনজন ছাড়াও এপিবিএন এবং প্রদীপের দেহরক্ষীসহ মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করে।

আদালতের নির্দেশে টেকনাফ থানায় মামলাটি রুজু হয়। দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ জামিন অযোগ্য ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলা নম্বর সিআর: ৯৪/২০২০ইং/টেকনাফ)।

দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় আলোচিত এই হত্যা মামলাটি তদন্ত শেষে ওসি প্রদীপসহ ১৫জনকে অভিযুক্ত করে রোববার কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন র্যাব-১৫ এর কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. খায়রুল আলম। অভিযুক্তদের মাঝে ১৪ জন কারাগারে এবং একজন পলাতক।

সায়ীদ আলমগীর/এসজে/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।