ফিরতে শুরু করেছেন সাগরে বিকল হওয়া জাহাজের পর্যটকরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৪:০৫ পিএম, ২১ ডিসেম্বর ২০২০

সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে টেকনাফ ফেরার পথে শতাধিক পর্যটক নিয়ে সাগরে বিকল হওয়া জাহাজের পর্যটকরা ফিরতে শুরু করেছেন। সোমবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে স্পিডবোট ও কাঠের ট্রলারে করে টেকনাফ ফিরেছেন জাহাজের অর্ধশতাধিক যাত্রী। বাকিরা পর্যটকরা দ্বীপে যাওয়া অন্য জাহাজে করে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

দুপুর ২টার দিকে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রোববার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে টেকনাফ ফেরার পথে সেন্টমার্টিন বঙ্গোপসাগরে ‘এস টি ভাষা শহীদ সালাম’ নামের পর্যটকবাহী জাহাজের ইঞ্জিন বিকল হয়। জাহাজ চালুর পর ঘাট ত্যাগ করে অল্পদূর এগোতেই পাঁচ মিনিটের মাথায় ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকে। পরে ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে জাহাজটিকে তীরে আনতে সক্ষম হয় পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড।

Ship-(3).jpg

যাত্রীদের অভিযোগ, বিকল ইঞ্জিন ঠিক করার নামে প্রায় তিন ঘণ্টা ভাসিয়ে রাখা হয় জাহাজটি। জাহাজটি ধীরে ধীরে মিয়ানমার জলসীমার দিকে ভেসে যাচ্ছে দেখে আতঙ্কিত পর্যটকদের কয়েকজন জাতীয় সেবা ৯৯৯-এ কল করে সহযোগিতা চান। পরে সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ড, পুলিশ ও নৌবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় সন্ধ্যার দিকে জাহাজটি তীরে আনা হয়।

পরিবার নিয়ে সেন্টমার্টিনে বেড়াতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়েছে জানিয়ে ঢাকার পর্যটক আবদুর রহমান বলেন, ‘মাঝ সমুদ্রে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকলের কত প্রতিবেদন পড়েছি। কিন্তু নিজেদের ভাগ্যেও বিষয়টি ঘটবে কল্পনায়ও ছিল না। চরম ভয় পেয়েছিলাম বিকল জাহাজ যখন ভাসন্ত অবস্থায় ছিল। এরপরও শৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আমরা দ্বীপে রাত্রিযাপন করেছি। জরুরি ঢাকা ফেরার তাড়া থাকায় কোস্টগার্ডের ব্যবস্থাপনায় কাঠের ট্রলারে টেকনাফ ফিরে এখন ঢাকার পথে রয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে অনেকে এসেছেন স্পিডবোটে। বাকিরা ট্রলারে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।’

Ship-(3).jpg

এস টি ভাষা শহীদ সালাম জাহাজের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘ইঞ্জিনচালিত বাহনের বিকল হওয়া নিয়ে কেউ গ্যারান্টি দিতে পারে না। আটকে যাওয়া পর্যটকদের আবাসন ও পরিবহন খরচটা আমরাই বহন করেছি। কোস্টগার্ড ও অন্য শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে আমরা সব কিছু করছি।’

তিনি আরও বলেন, বিকল জাহাজ মেরামতে চট্টগ্রাম থেকে প্রকৌশলী আনা হয়েছে। তবে এখনো (দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত) সফলতা আসেনি। আশা করছি সন্ধ্যার আগে জাহাজ সচল হবে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, বিকল জাহাজের যাত্রীরা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দ্বীপে অবস্থান করেছেন। যারা যেভাবে যেতে চেয়েছেন সকাল থেকে তাদের সেভাবে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যেহেতু জাহাজটি এখনো সচল হয়নি, সেহেতু বাকি যাত্রীদের দ্বীপে আসা ভিন্ন জাহাজে ফেরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সায়ীদ আলমগীর/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।