সেই ঝুরমান বেওয়ার জন্য নির্মাণ হচ্ছে ঘর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নাটোর
প্রকাশিত: ০৮:৫৬ এএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০২০

ঝুপড়িতে বাস করেও প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পে জমি দান করেছিলেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার কৈচর পাড়া গ্রামের ঝুরমান বেওয়া। এতে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তার জন্য ঘর বরাদ্দ দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। সেই ঘরের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ।

ঝুরমান বেওয়ার বাড়ির পাশে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ। তিনি তার বক্তব্যে নিজে গৃহহীন হয়েও চল্লিশ জন গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণে ৮০ শতাংশ জমি দান করায় বিধবা ঝুরমান বেওয়াকে ‘জাতীয় বীর’ আখ্যা দিয়ে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। এ খবর প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় জেলা প্রশাসক ঝুরমান বেওয়াকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা উপহার প্রদান করেন।

House-(3).jpg

একই অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াঙ্কা দেবী পাল ঝুরমান বেওয়ার দানকে ‘দেশের জন্য উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত স্থাপন’ উল্লেখ করে জাতীয় সম্মান হিসেবে উপহারস্বরূপ চাদর পরিয়ে দেন।

আলোচনা শেষে ঝুরমানের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া গৃহ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম গকুল, ইউএনও প্রিয়াঙ্কা দেবী পাল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুমান অনন্যা।

উপজেলা নির্বাহী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঝুরমান বেওয়ার ভাইয়ের দেয়া জমিতে সরকারিভাবে গৃহ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বারান্দাসহ দুই কক্ষবিশিষ্ট শোয়ার ঘর, একটি রান্নাঘর এবং একটি টয়লেট থাকবে ঝুরমানের নবনির্মিত বাড়িতে। এতে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয় হবে বলে জানা গেছে।

House-(3).jpg

প্রসঙ্গত, মানুষের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করে জীবিকা নির্বাহকারী ঝুরমান বেওয়ার নিজের কোনো গৃহ নেই। ভাইয়ের দেয়া জমিতে কুঁড়েঘরে বসবাস করেন। ২৯ বছর আগে সরকার জামনগর মৌজায় ৯৭ শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্ত দেয়। গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণের জন্য সেই জমি থেকে তিনি ৮০ শতাংশ জমি প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে দান করেন।

গত ১৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ঝুরমান বেওয়া ইউএনও প্রিয়াঙ্কা দেবী পালের কাছে ৮০ শতাংশ জমিদানের প্রয়োজনীয় দলিল হস্তান্তর করেন। ঝুরমান বেওয়া জমিদান করে দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনের সংবাদ প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন প্রকল্প থেকে সরকারি গৃহ বরাদ্দের জন্য ইউএনওকে নির্দেশ দেয়া হয়।

জমিদাতা ঝুরমান বেওয়া বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগরের কৈচর পাড়া গ্রামের মৃত কছিম উদ্দিনের মেয়ে এবং নাটোর সদরের লক্মীপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর স্ত্রী।

রেজাউল করিম রেজা/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।