৫ লাখ টাকার জন্য থেমে আছে স্কুলছাত্র মোমিনের জীবনের গল্প

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৩:৫৩ পিএম, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০
স্কুল ছাত্র মোমিন মিয়া

‘যে জীবনে অনেক স্বপ্ন দেখতাম বড় হয়ে পড়াশোনা শেষ করে সমাজের ১০ জনের মতো আমিও একজন হব, সেই জীবনে এখন শুধু হাহাকার, কান্না। ব্রেইন টিউমার আমার জীবনের সব স্বপ্ন আর আশা শেষ করে দিয়েছে। আমি হয়ত আর বেশি দিন বাঁচব না।’

মোবাইল ফোনে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিল পাইগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মোমিন মিয়া। সে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের কৈতক গ্রামের দিন মজুর মাসুক মিয়ার ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিন মজুর মাসুক মিয়ার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে সাজানো গোছানো সংসার। তিনি ঢাকায় গার্মেন্টেসে চাকরি করে সংসারের খরচের পাশাপাশি ছেলের চিকিৎসাও চালাতেন। কিন্তু মহামারি করোনার কারণে তার চাকরি চলে যায়, ফিরে আসেন গ্রামের বাড়ি। কোনোরকমে এখন শুধু সংসারটা চালাতে পারলেও ছেলের চিকিৎসা চালাতে প্রয়োজন প্রচুর টাকার।

মাসুক মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, স্বপ্ন দেখতাম ছেলেকে লেখাপড়া করিয়ে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার বানাব। কিন্তু সেই স্বপ্ন তো পূরণ হলো না বরং এখন আমার ছেলেকে হারাতে বসেছি। তার ব্রেইন টিউমার হয়েছে, ডাক্তার বলছে ১৫ দিনের ভেতর ঢাকা আগারগাঁও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করে অপারেশন করাতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন ৫ লাখ টাকা। আমরা ঠিকমতো খেতেই পারি না, এখন ছেলেকে চিকিৎসা করাতে এত টাকা কোথায় পাব।

তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা চান তিনি।

ব্রেইন টিউমার আক্রান্ত স্কুলছাত্র মোমিন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, আমাকে বাঁচাতে কেউ কি সাহায্য করবে না, আমার স্বপ্ন কি সত্যি হবে না, পাঁচ লাখ টাকার জন্য আমি কি মরে যাব? যদি সবাই আমার চিকিৎসা করাতে একটু সাহায্য করতেন, তাহলে হয়তো আমি বেঁচে যেতাম।

লিপসন আহমেদ/এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।