কক্সবাজার রেড ক্রিসেন্ট অফিসে হামলা, কর্মকর্তাসহ আহত ২
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কক্সবাজার জেলা ইউনিটের অফিসে দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আগামী ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক নির্বাচনে ভোটার অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া কয়েকজন এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে জেলা ইউনিটের ডেভেলপমেন্ট অফিসার জহিরুল ইসলাম ও ইউনিটের সহকারী জুনিয়র ডিরেক্টর আজরুল উদ্দিন সফদারের ছেলে নবীন সফদার আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
কক্সবাজার জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সহকারী জুনিয়র ডিরেক্টর আজরুল উদ্দিন সরদারের অভিযোগ, সহ-সভাপতি প্রার্থী মোশারফ হোসেন দুলাল, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শাহিনুল হক মার্শাল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে।
এ সময় রেড ক্রিসেন্ট কার্যালয়ের চারটি সিসি ক্যামেরা, মনিটর ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীরা মোবাইল, হার্ডডিস্ক, ল্যাপটপ নিয়ে গেলেও পরবর্তীতে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লুট হওয়া এসব জিনিসপত্র উদ্ধার করে বলে জানান তিনি। হামলাকারীরা আহতদের মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে সব ডকুমেন্ট মুছে দিয়েছে।
আজরুল উদ্দিন অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘আগামী ৯ জানুয়ারি রেড ক্রিসেন্ট কক্সবাজার জেলা ইউনিটের নির্বাচনে নতুন ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি তোলেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা কামালসহ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা। বিষয়টি গঠনতান্ত্রিক হলেও তারা তা মানতে চাননি। এ অবস্থায় বিভিন্ন সময় আমাকে হুমকি-ধমকি দিয়েছে। এ বিষয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর কক্সবাজার মডেল থানায় সাধারণ ডাইরি করতে যাই। কিন্তু পুলিশ আমার অভিযোগ গ্রহণ করেননি। যার কারণে আজকে তারা এ হামলা করতে সাহস পেয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সংগঠনের গঠনতন্ত্র মতে, আগামী নির্বাচনের সব প্রস্তুতি নেন নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বার্ষিক সদস্য কেন ভোট দিবে এমন অভিযোগ তুলে তারা এ হামলা চালিয়েছে। গঠনতন্ত্র মতে ভোটার তালিকা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে আমার নিজস্ব কোনো ভূমিকা নেই। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে নির্দেশনা পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
রেড ক্রিসেন্ট অফিসের এ কর্মকর্তার অভিযোগ, হামলার এক ঘণ্টা পরে পুলিশ এসে লুট হওয়া পণ্যগুলো পাবার ব্যবস্থা করে দিলেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। অথচ শুরু থেকেই আমি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেছি। আমার সঙ্গে দেখা করতে এসে ছেলে নবীন মারাত্মকভাবে হামলার শিকার হয়েছেন।
রেড ক্রিসেন্ট কক্সবাজার জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, ‘নির্বাচনে ভোটার নিয়ে দ্বিমত থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তারা সেদিকে না গিয়ে সন্ত্রাসী স্টাইলে হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মকর্তার এক ছেলে আহত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।’
হামলার বিষয়ে অভিযুক্তদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। রিং হলেও ফোন রিসিভ না করায় কারোর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, ‘রেড ক্রিসেন্ট অফিসে হামলার ঘটনা শুনে আমি পুলিশের একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তা আজরুল উদ্দিনের অভিযোগ না নেয়া প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ‘তিনি থানায় এসেছিলেন কিন্তু সিদ্ধান্তহীনতার কারণে শেষ পর্যন্ত অভিযোগ না করে চলে যান। অভিযোগ নেয়া হয়নি বিষয়টা সত্য নয়। লিখিত পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সায়ীদ আলমগীর/এআরএ