দাগনভুঁইয়ায় জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রার্থী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৭:০২ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২১

রাত পোহালেই প্রথমবারের মতো ইভিএম মেশিনে ভোট দেবেন দাগনভুঁইয়ার ভোটাররা। শনিবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ইতিমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। তবে ভোটাদের মধ্যে উৎসাহ থাকলেও কারও কারও মধ্যে রয়েছে ইভিএম ভীতি।

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, বিগত কয়েকদিন ভোটের প্রচার প্রচারণায় সরগম থাকলেও শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) সর্বত্রই বিরাজ করছে শুনশান নীরবতা। সবাই যেন ভোর হওয়ার অপেক্ষা করছে। বিএনপি প্রার্থী স্বপনের পক্ষে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগ করা হলেও চমৎকার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফারুক খানের। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দুই প্রার্থীই বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মেয়র পদে চারজন লড়ছেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওমর ফারুক খান টানা দুইবার মেয়র ছিলেন। এবার বিজয়ী হলে তৃতীয়বার টানা দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী সাইফুর রহমান স্বপন গত দুইবারই আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফারুকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন। এছাড়া মার্কা হাতে পাওয়ার পর থেকেই মাঠে রয়েছেন জাতীয় পার্টির বিনোদ বিহারী ভৌমিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তারেক আজিজ খান।

বিএনপি প্রার্থী সাইফুল রহমান শুক্রবার সন্ধ্যায় জাগো নিউজকে জানান, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে নির্বাচিত হবো। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রচারণা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উঠপাখি মার্কার প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের লোকজন বিএনপির প্রার্থী-সমর্থকদেরকে বাড়ি বাড়ি হুমকি-ধামকি দিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানোর পরও কোনো সুফল মিলছে না।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওমর ফারুক খান জানান, নির্বাচনকে ঘিরে সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে। ভোটাররা ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো বলে প্রত্যাশা জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, প্রতিটি ভোট কক্ষে একটি করে ইভিএম দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি কেন্দ্রে একটি করে অতিরিক্ত ইভিএম দেয়া হয়েছে। কোনো কারণে যান্ত্রিক ক্রুটি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক বিকল্প মেশিন ব্যবহার করা যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার তানিয়া জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে র‌্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট ও বিজিবি সদস্যও মাঠে থাকবে।

উল্লেখ্য, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ১৩টি ভোটকেন্দ্রে ৭৩টি ভোটকক্ষে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজার ৭২। নির্বাচনে প্রতিটি কক্ষে দুইজন করে মোট ১৪৬ পোলিং অফিসার থাকবেন। শুক্রবার দিনভর কেন্দ্রের জন্য যাবতীয় নির্বাচনী মালামাল বুঝিয়ে নিয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসার ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা। চার ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করেছেন। বাকি ৫ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

রাশেদুল হাসান/এএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]