১০ গ্রামের মানুষের ভরসা দুই সাঁকো

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৩:৪৪ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২১

মুন্সিগঞ্জের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের ১০টি গ্রামকে সরাসরি সড়ক পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে দুটি বাঁশের সাঁকো। একটি সাঁকো রজতরেখা নদীর ওপর অন্যটি সেরাজাবাদ খালের উপর রয়েছে।

শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলের ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দুটি। এ সাঁকো দিয়ে চলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের। স্থানীয়দের অভিযোগ সাঁকো দুটি মুন্সিগঞ্জ সদর ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলা দুটির মধ্যবর্তী সীমানায় হওয়া জনপ্রতিনিধিরা দায়সাড়াভাবে আছে। তাদের দাবি সড়ক যোগাযোগের জন্য সাঁকোর যায়গায় দ্রুত সেতু নির্মাণ করা হোক।

সরেজমিনে টঙ্গীবাড়ীর সেরাজাবাদ এলাকায় দেখা যায়, দিঘীরপাড়-সিপাহিপাড়া সড়কের ডান পাশেই একটি ছোট খাল। খালের উপর ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি আধাভাঙা বাশের সাঁকো। সাঁকোটি পার হলেই সাতাশ ফুট দৈর্ঘ্যে মাটির রাস্তাটি।

এ নদীর ওপর প্রায় আড়াইশ ফুট দৈর্ঘ্যের আরো একটি নড়বড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো। সাঁকোটি নদী থেকে কমপক্ষে ২০ ফুট উঁচুতে। কোথাও এর উচ্চতার পরিমাণ কম-বেশিও আছে। সাঁকোটি উঁচু হওয়ায় এক সাথে ৪-৫ জন উঠলেই দুলতে শুরু করে।

ঢালিকান্দি এলাকার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিদিন এ পথ দিয়ে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে।

তিনি আরো বলেন, রজতরেখা নদীর ওপর একটি ও সেরাজাবাদ খালের উপর একটি ছোট সেতু নির্মাণ করা হলে সহজেই মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের কংশপুরা, ঢালিকান্দি, নোয়াদ্দা, শ্যামারচর, রাজারচর, আধারা, আমঘাটা, মুন্সিকান্দি, বেহেরপাড়াসহ ১০ গ্রামের মানুষ সহজেই মুন্সিগঞ্জ শহরসহ জেলার অন্যান্য উপজেলায় সড়ক পথেই যেতে পারবে।

স্থানীয়রা জানান, ২০১০ সালে এলাকাবাসীর নিজেদের অর্থায়নে প্রথমে খালের উপর ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁশের সাঁকো তৈরি করে। সেখান থেকে সাতশ ফুট মাটির রাস্তা। নদীর ওপর আরো একটি বাঁশের সাঁকো স্থানীয়রা তৈরি করেন। প্রতিবছর ব্যক্তি উদ্যোগে সাঁকোর সংস্কার করা হয়।

এ দিকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের ৩৫টি মসজিদ, সাতটি মাদরাসা, দুইটি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ নদীর দুই পাড়ের হাজার মানুষের সাঁকোতে পারাপার হচ্ছে। প্রায় সময় ছোট শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্করা সাঁকো থেকে পড়ে যাচ্ছে।

jagonews24

ঢালীকান্দি এলাকার বাসিন্দা রাবিয়া জানায়, রজত রেখা নদীর উপরের বাঁশের সাঁকোটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষার তুলনায় শুকনো মৌসুমে এর উচ্চতা দ্বিগুণ হয়। ফলে এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াতের সময় অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটে।

নোয়াদ্দা এলাকার বাসিন্দা কাজি আবদুল মতিন (৭৫) বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের আগে নৌকায় করেই এই নদীটি পার হতেন। এক দশক আগে স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। শুনেছি দেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তাহলে এখনও সদর উপজেলায় বাঁশের সাঁকো কেনো? এখানকার জনপ্রতিনিধিরা সেতুটি নির্মাণ করে দিতে পারলোনা’।

মোল্লাকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মহসিনা আক্তার বলেন, ‘রজত রেখা নদীতে প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ একটি সেতু প্রয়োজন। এছাড়াও খালে একটি কালভার্ট। সেতু নির্মাণের জন্য চেয়ারম্যান হওয়ার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। উপজেলা এবং সংসদ নির্বাচনের আগে সব প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রকৌশলীরা সরেজমিনে এসে দেখে গেছেন, তবে কাজ হয়নি’।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবো।

এসএমএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]