মোংলা-খুলনা রেললাইন বন্দরের সক্ষমতা বাড়াবে : রেলমন্ত্রী
রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, মোংলা-খুলনা রেললাইন স্থাপনের ফলে মোংলা বন্দরের সামর্থ্য/সক্ষমতা আরও অনেকাংশে বেড়ে যাবে। এখন ট্রাকে যে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে রেলসেবা চালু হলে তখন সময় ও খরচ কমে যাবে।
তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতেও রেল সংযোগ হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন পয়েন্টে এই রেল যোগাযোগ থাকছে। ফলে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান চার দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগের মাধ্যমে মোংলা বন্দর ব্যবহার করে প্রত্যেকটি দেশ তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সুবিধা নিতে পারবে।
মোংলা-খুলনা রেললাইন স্থাপনের মধ্য দিয়ে সেই সুযোগটিই তৈরি হচ্ছে।
শনিবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে মোংলা-খুলনা রেললাইন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে এসে রেলমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ সব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বে এখনও স্বাভাবিক অবস্থা আসেনি। তার পরও আমাদের প্রজেক্টের কাজ চলমান। তবে করোনায় চলমান এ কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেজন্যই কাজের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়ে আগামী ডিসেম্বরে কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। রেললাইনের মাটির কাজ যদি চলতি শুকনো মৌসুমে শেষ হয় তাহলে ডিসেম্বরেই এ রেললাইন চালু করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে রূপসা রেল সেতুসহ অন্যান্য ব্রিজ-কালভার্টের কাজ শেষের পথে।

মন্ত্রীর রেললাইনের কাজ পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র আলহাজ তালুকদার আব্দুল খালেক, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা, মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমলেশ মজুমদার, মোংলা-খুলনা রেললাইন প্রকল্পের ভারতীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ইরকনের প্রকল্প ম্যানেজার অজিত কুমার, ডেপুটি ম্যানেজার তীর থংকর জানা ও বিরেন সাহা।
২০১৬ সালে শুরু হওয়া মোংলা-খুলনা রেললাইন প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। নানা প্রতিকূলতার কারণে চতুর্থবারের মতো ২০২১ সাল পর্যন্ত এ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। এ রেলপথ প্রকল্পটি তিনটি অংশে বিভক্ত। রেলসেতু, রেললাইন ও টেলিকমিউনিকেশন এবং সিগন্যালিং। এছাড়া এর আওতায় রূপসা রেল সেতুসহ ২১টি ছোট-মাঝারি ব্রিজ ও ১১০টি কালভার্ট নির্মিত হচ্ছে।
এরশাদ হোসেন রনি/এআরএ/এমকেএইচ