মন্ত্রীর সফর নিয়ে দিরাই আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নে জগদল ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি নির্মাণ করা হলেও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত ছিল ৩৭টি গ্রামের মানুষ।
এই মানুষগুলোর কথা চিন্তা করে শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
কিন্তু পরিকল্পনামন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে দিরাই আওয়ামী লীগ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। একপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে বলছে পরিকল্পনামন্ত্রী সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত যুগ্ম সচিব মিজানুর রহমানের প্রোগামে আসছেন সেজন্য তারা ওই দিনের কর্মসূচি বর্জন করেছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের আরেকপক্ষ পরিকল্পনামন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আনন্দ মিছিল করছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য জয়া সেনগুপ্তা এবং দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগকে না জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী হাসপাতালের উদ্বোধন করতে আসছেন তার প্রতিবাদে জগদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে সমাবেশের জন্য বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মঞ্চ নির্মাণ করা হয়। বিষয়টি এলাকাবাসী নজরে আসলে তারা একত্রিত হয়ে আওয়ামী লীগের ওই কর্মসূচিতে বাঁধা দেন।
পরে পুলিশ পাহারায় বৃহস্পতিবার বিকালে দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান ছোবা মিয়ার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সোহেল আহমদ, সিরাজ দৌলা, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক মেয়র আজিজুর রহমান বুলবুল, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন রশিদ লাবলু, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা লুৎফর রহমান এওর মিয়া, অভিরাম তালুকদার, চেয়ারম্যান শিবলী আহমেদ বেগ, দিরাই পৌরসভার মেয়র বিশ্বজিত রায়।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্থানীয় সাংসদ সদস্য জয়া সেনগুপ্তা এবং দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগকে না জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বিএনপিপন্থী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত যুগ্ম সচিব মিজানুর রহমানের কথায় দিরাই আসছেন আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
এদিকে পরিকল্পনামন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে দিরাই বাজারে আনন্দ মিছিল করেছে দিরাই উপজেলার আওয়ামী লীগের আরেক অংশ। বৃহস্পতিবার বিকালে দিরাই বাজার থেকে মিছিলটি বের হয়ে বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সেখানে গিয়ে মিছিলটি সমাপ্ত করা হয়।

আনন্দ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগ নেতা দিরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র মোশাররফ মিয়া, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রঞ্জন রায়।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ইউনিয়নের ৩৭টি গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ করে দিতেই ২০০৬ সালে জগদল গ্রামের বাজারের পাশে ২০ শয্যার একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। এরপর প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালের জন্য জমি অধিগ্রহণ, পাঁচটি পাকা ভবন, পাম্প হাউস, গ্যারেজ, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়।
তারা আরও জানান, ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর এটির উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ-২ আসনের (দিরাই-শাল্লা) সাংসদ তৎকালীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন উপদেষ্টা চিকিৎসক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী। কিন্তু এটি আর চালু হয়নি।
জগদল গ্রামের বাসিন্দা রহমত মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, এই এলাকায় পুরোটাই হাওর। এখানকার যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত করুণ। এখানে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে তারা আশার মুখ দেখেছিলেন। কিন্তু সেটি দীর্ঘদিন ধরে চালু না হওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা ছিল। এখন এটি চালু হচ্ছে জেনে আমরা খুব খুশি।
একই গ্রামের বাসিন্দা লতিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, যেই যা বলুক আমরা চাই ২০ তারিখ পরিকল্পনামন্ত্রী হাসপাতালটি যেন চালু করে দেন। এই হাসপাতাল চালু হলে জগদল ইউনিয়নের ৩৭টি গ্রামের মানুষের পাশাপাশি দিরাই উপজেলার করিমপুর ও জগন্নাথপুর উপজেলার হলদিপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি গ্রামের মানুষ সেবা পাবেন।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ শামস উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। এখানে সেবা কার্যক্রম চালু হচ্ছে জেনে এলাকার মানুষও বেশ খুশি।
সুনামগঞ্জের পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জাগো নিউজকে বলেন, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল বন্ধ আছে। এটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন। আমি স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণে সেখানে যাচ্ছি। স্থানীয় সাংসদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা না করে সরকারের এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সবার সহযোগিতা ও যুক্ত থাকা উচিত’।
লিপসন আহমেদ/এসএমএম/এমএস