ভাষার টানে শূন্যরেখায় দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলা
মাতৃভাষার টানে মহামারি উপেক্ষা করে বেনাপোল চেকপোস্টের জিরো পয়েন্টে বসেছে (ভারতীয় অংশে) দুই বাংলার ভাষাপ্রেমীদের মিলনমেলা। রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মিলনমেলা বসে।
ভারতীয় সীমান্তের জিরো পয়েন্টে দুই বাংলার ভাষাপ্রেমীদের মিলনমেলা উপলক্ষে একুশে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়। এবারের আয়োজন করেছে দুই বাংলার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন পরিষদ। তবে মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবারের আয়োজন স্বল্প পরিসরে করা হয়েছে।

বেনাপোলে কোনো অনুষ্ঠান না হওয়ায় এবার বাংলাদেশ থেকে ১০০ জন প্রতিনিধি এতে অংশগ্রহণ করেছেন। প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটি বেনাপোল চেকপোস্টের নো ম্যান্স ল্যান্ডে যৌথভাবে পালন করা হয়। তবে করোনার কারণে এবার একটু অন্যভাবে আয়োজন করা হয়েছে।এছাড়া সাংবাদিকদের প্রবেশেও বাঁধা ছিল। বাংলাদেশ থেকে মাত্র পাঁচজন সাংবাদিক প্রবেশের অনুমতি পান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিন এবং ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বনগাঁর পৌর মেয়র শঙ্কর আঢ্য। সকালে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই নিজ নিজ ভূখণ্ডে অপেক্ষায় ছিলেন আয়োজকরা। তারপর সীমানা পেরিয়ে শূন্যরেখায় পা রাখেন দুই দেশের প্রতিনিধি দল।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সাংসদ আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিন, বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মো. আজিজুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মনজু, জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, ভারতের বনগাঁর পৌর মেয়র শঙ্কর আঢ্য, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের প্রাক্তন বিধায়ক ও মেন্টর গোপাল শেঠ, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি শ্রীকৃষ্ণ গোপাল ব্যানার্জী, বনগাঁ লোকসভার প্রাক্তন সংসদ শ্রীমত্তা মমতা ঠাকুরসহ উভয় দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, কবি ও সাহিত্যিকরা। অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়।
মো. জামাল হোসেন/এমএসএইচ/এমকেএইচ