মাকে হত্যার পর লাশ পুঁতে রাখল একমাত্র ছেলে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৮:৪৫ এএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কুষ্টিয়ায় টাকার লোভে গর্ভধারিণী মাকে বন্ধুদের সহায়তায় হত্যা করে লাশ মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিল একমাত্র ছেলে। শুধু তাই নয় হত্যার পর মা নিখোঁজ হয়েছে এ কথা বলে থানায় সাধারণ ডায়রিও করে ঘাতক ছেলে।

হত্যাকাণ্ডের ৩৪ দিন পর মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ মাটির নিচে পুঁতে রাখা ওই মায়ের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুলিশ কুলাঙ্গার ওই সন্তানসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে।

নিহত মমতাজ বেগম (৫৫) মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ দক্ষিণ কাঠদহ এলাকার মৃত ফজল বিশ্বাসের স্ত্রী এবং পাঁচ সন্তানের জননী।

পুলিশ জানায়, গত ২১ জানুয়ারি মমতাজ বেগম নিখোঁজ হন। এই ঘটনায় নিহতের ছেলে মুন্না ২৫ জানুয়ারি মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন।

মিরপুর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, জিডির সূত্র ধরে সোমবার নিহতের ছেলে মুন্নার বন্ধু একই এলাকার বাসিন্দা ইয়াসিনের ছেলে রাব্বিকে (২৭) গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ কাঠদহ এলাকা থেকে নিখোঁজ মমতাজের ছেলে মুন্নাকে আটক করে পুলিশ।

একপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদে মুন্না ৩৪ দিন আগে তার মাকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে বস্তাবন্দী অবস্থায় লাশ বাড়ির নলকূপের পাশে মাটির নিচে পুঁতে রেখেছে বলে স্বীকার করে। পরে পুলিশ তার দেওয়া তথ্য মতে বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় নিখোঁজ মমতাজ বেগমের লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত মমতাজ বেগমের একমাত্র ছেলে মুন্না (৩০), দেবর কাদের (৫০) ও মুন্নার বন্ধু রাব্বীকে (৩০) গ্রেফতার করেছে।

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি পোড়াদহ কাপড়ের হাটে একটি দোকান নিহত মমতাজ বেগম ২৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। দোকান বিক্রির ওই টাকা মমতাজ বেগম তার ৪ মেয়েকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করে প্রদান করেন। মুন্না তার মাকে বোনদেরকে টাকা দিতে বাধা দেয়। কিন্তু মমতাজ বেগম ছেলের অনিচ্ছা সত্ত্বেও মেয়েদেরকে টাকা দেন। এ কারণে মুন্না ক্ষুদ্ধ হয়ে চাচা কাদের, বন্ধু রাব্বী ও সুজনকে টাকা দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

পোড়াদহ ইউপি চেয়ারম্যান মজনু জানান, নিহত মমতাজ বেগম তার ছেলে মুন্না ও ছেলের স্ত্রী সুমাইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে একাধিকবার বিচার দাবি করেন।

আল-মামুন সাগর/এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]