পেশা বদলাচ্ছেন কামারেরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাগুরা
প্রকাশিত: ০২:৪৮ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

প্রযুক্তির বদৌলতে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে দা, কাস্তে, কোদাল ও শাবলসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ব্যবহার। নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব যন্ত্রপাতিরগুলো তৈরি ও ধার দেয়ার জন্য গ্রামের হাটবাজারগুলোতে এক সময় ছিল কামারদের বেশ আধিপত্য। কিন্তু বর্তমানে আর সে সময় নেই। এখন নতুন নতুন প্রযুক্তি এসে সেসব জিনিসের ব্যবহার গেছে কমে। ফলে বাজারগুলোতে আগের মতো চোখে পড়ে না কামারদের সেই কর্মযজ্ঞ। যদিও দু-একজন আছেন তারাও এখন কাজের অভাবে ছেড়ে দিচ্ছেন এ পেশা।

মাগুরা সদর উপজেলার নিলয় কর্মকার বাবার হাত ধরে প্রায় ৫৫ বছর ধরে এ কাজ করে আসছেন। তিনি জানালেন, ২০-২২ বছর আগেও এ পেশার সঙ্গে প্রায় একশো পরিবার জড়িত ছিল। কিন্তু দিন দিন এ পেশা পরিবর্তন করে অন্যান্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে জেলার চার উপজেলায় মাত্র ৬০-৬৫টি পরিবার তাদের বাপ-দাদাদের ব্যবসা খুব কষ্টে ধরে রেখেছেন।

Kamar-(2).jpg

শহরের নতুন বাজারের গোবিন্দ কর্মকার (৬৫) জাগো নিউজকে জানান, কোরবানির এক মাস আগে থেকেই পশু জবাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায়। এছাড়া বছরের অন্য সময় হ্যান্ডেল, হাতুড়িসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি করে তাদের কোনোমতো সংসার চলে।

তিনি আরও জানান, কাঁচামাল সংকট, উচ্চমূল্য এবং পণ্যের ভালো দাম না পাওয়ায় অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।

শ্রীপুর উপজেলার খামারপাড়ার মানিক কর্মকার (৬২) জানান, পৈত্রিক পেশা হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে লোহা পেটানোর কাজ করে আসছেন তিনি। বৃদ্ধ বয়সেও কাজ করে যাচ্ছেন। তবে তার সন্তানদের কেউ এ পেশায় আসেননি। কারণ হিসেবে তিনি বললেন, ‘লোহা-কয়লার দাম যেভাবে বেড়েছে, সেভাবে আমাদের তৈরি পণ্যের দাম বাড়েনি। কামারদের মানুষ এখন আর সম্মান দেয় না।’

Kamar-(2).jpg

‘কয়লা খনির কয়লা এখন আর আগের মতো পাওয়া যায় না। খড়ির কয়লা দিয়ে কাজ করতে হয়। আগে ১২শ টাকা দিয়ে এক বস্তা কয়লা কিনতে পারলেও এখন তার দাম বেড়ে কয়েকগুণ হয়েছে। লোহার দামও বেড়ে গেছে। এসব কারণে অনেকে এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন’, যোগ করেন মানিক কর্মকার।

মাগুরা শিল্প সহায়ক কেন্দ্রের (বিসিক) উপ-ব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালাম জাগো নিউজকে বলেন, ­লোহা, কয়লাসহ এই শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের দাম এখন বেড়ে গেছে। বেশি দাম দিয়েও আবার মানসম্পন্ন কাঁচামাল পাওয়া যায় না। যে কারণে পরিশ্রম এবং খরচের তুলনায় আয় কম হয়। এসব কারণে এ কাজের সঙ্গে জড়িত অনেকেই পেশা পরিবর্তন করছেন। তবে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বিসিক কাজ করছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

আরাফাত হোসেন/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]