ঊর্মিলা রানীর ধসে পড়া ঘর আবার নির্মাণ করছে উপজেলা প্রশাসন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ০৯:০৮ এএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বরগুনার তালতলী উপজেলায় মুজিববর্ষে উর্মিলা রানীকে (৬৫) দেয়া সরকারি ঘরটি ধসে পড়ায় সেটি ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করে দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের জন্য নেয়া ৯ হাজার টাকাও ফেরত দিয়েছেন ঘর নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে ঘর নির্মাণের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ধসে পড়ে ঘরটি। উপজেলা প্রশাসন সেসময় তড়িঘড়ি করে ধসে পড়া অংশ সংস্কার করে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারিভাবে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। তালতলীতে প্রথম ধাপে ১০০ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার ঘর পাচ্ছে। ২ শতাংশ খাসজমিতে দুই কক্ষের সেমি পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে খরচ হবে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

এরই অংশ হিসেবে উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বেহালা গ্রামের মৃত রাজেশ্বরের স্ত্রী ঊর্মিলা রানীকে ঘরটি দেয়া হয়। কিন্তু ঘরটির দেয়াল ধসে পড়ে। পরে সেটি মেরামত করে দেওয়া হয়। সিমেন্ট কম ও বালু বেশি দেওয়ায় ঘরের নির্মাণকাজ চলাকালে উত্তর পাশের দেয়াল ধসে পড়ে বলে জানা যায়।

Room-(2).jpg

সরেজমিনের গিয়ে দেখা গেছে, ঊর্মিলা রানীকে দেয়া সরকারি ঘরটি নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় ঘরটি ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করা হচ্ছে। ইট থেকে সিমেন্ট ও বালু অপসারণ করছেন শ্রমিকরা। পুনরায় ঘর নির্মাণের জন্য নির্মাণ সামগ্রী স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

উর্মিলা রানী বলেন, আগের ঘরটি নির্মাণের পর দু’বার ভেঙে পড়ে। পরে ইউএনও স্যার তা ঠিক করে দেন। এক সপ্তাহ আগে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার আইসা বলছে এই ঘর ভাঙা লাগবে। সিমেন্ট কম ও বালু বেশি দেয়ার কারণে ঘরে দুই পাশের দেয়াল ভেঙে পড়েছিলো। পরে তা আবার মেরামত করে দেয়া হয়। এবার খুব টেকসই করে ঘরটি নির্মাণ করা হবে।

ঊর্মিলা রানী আরও বলেন, আগের ঘর নির্মাণের সময় নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের জন্য ঠিকাদারকে দেয়া ৯ হাজার টাকাও আমাকে ফেরত দেয়া হয়েছে।

Room-(2).jpg

ঠিকাদার বেল্লাল হোসেন বলেন, আমি কোনো টাকা নেইনি। এলাকার লোকজন টাকা নিয়েছিল। পরে ইউএনও স্যার টাকা ফেরত দিতে বলেছে। আমি টাকা ফেরত দিয়েছি।

ঘর ভাঙার বিষয়ে বেল্লাল বলেন, ঢাকার লোকজন এসে ঘর দেখে বলেছেন, এই ঘর ভেঙে পুনরায় নতুন ঘর করতে হবে। নতুন ঘর নির্মাণের ব্যয় তারা বহন করবে।

তবে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, ঊর্মিলা রানীর ঘরটি খালের খুব কাছে নির্মাণ করা হয়। খালের লোনা পানি থেকে রক্ষার জন্য ঘরটি ভেঙে খালের পাড় থেকে ১০ হাত ভেতরে এগিয়ে আনা হয়েছে। অন্য কোনো কারণে এই ঘরটি ভাঙা হয়নি।

এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]