বগুড়ায় যে কারণে জামানত হারালেন নৌকার প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০২:২৭ এএম, ০২ মার্চ ২০২১

দেশের সবচেয়ে বড় বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। শুধু তাই নয় এবারই প্রথমবারের মতো, জামানত হারিয়েছেন নৌকার প্রার্থী। রোববার অনুষ্ঠিত হওয়া দেশের ২৯টি পৌরসভা নির্বাচনের মধ্যে শুধু বগুড়াতেই এই ভরাডুবি হয়।

হারের পর প্রাথমিক বিশ্লেষণে প্রার্থী নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্ত এবং নেতাদের অসহযোগিতা, দলীয় কোন্দল এবং নেতায়-নেতায় বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। এর আগে অনুষ্ঠিত বগুড়ার আটটি পৌরসভার নির্বাচনে দলের কোনো প্রার্থীকে জামানত হারাতে হয়নি।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা বলেন, এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী অনেকের পছন্দের ছিল না। তারা প্রকাশ্যে বিরোধিতা করতে না পারলেও টাকার বিনিময়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন এবং ভোট দিয়েছেন।

তবে অনেকে আবার পরাজয়ের কারণ হিসেবে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীকে দায়ী করেছেন। তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হবার পরেও স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করেন এবং দ্বিতীয় অবস্থানে থাকেন। আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান আকন্দের জগ মার্কার হয়ে নির্বাচনী মাঠে ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বগুড়া পৌরসভায় ২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৭০ জন ভোটারের মধ্যে এক লাখ ৬৫ হাজার ১১২ জন ভোটার তাদের ভোট প্রদান করেন। যা মোট ভোটের শতকরা ৫৯ দশমিক ৮৫ ভাগ।

নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা পেয়েছেন ৮২ হাজার ২১৭ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান আকন্দ পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৯০ এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু ওবায়দুল হাসান ববি পেয়েছেন ২০ হাজার ৮৯ ভোট।

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ৬২ হাজার ভোট বেশি পেয়েছে বিএনপি প্রার্থী। আর প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোটও পাননি আওয়ামী প্রার্থী। এ কারণে তাকে জামানত হারাতে হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নৌকার প্রাথী আবু ওবায়দুল হাসান ববিকে শহরের সাধারণ ভোটারদের অনেকেই চেনেন না। তিনি শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নিলেও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার দেখা মিলত না। দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও তাকে ভালভাবে চেনেন না। শহর আওয়ামী লীগের চেষ্টাতেই তিনি এবার পৌরসভার মনোনয়ন পেয়েছেন।

পরাজয়ের কারণ জানতে আওয়ামী লীগের প্রাথী আবু ওবায়দুল হাসান ববিকে সোমবার একাধিকবার ফোন দিয়ে ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তিনি সাড়া দেননি।

তবে পরাজয় প্রসঙ্গে বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফি নেওয়াজ খান রবিন বলেন, আমরা যতো শিগগিরই সম্ভব ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করবো। এক্ষেত্রে দলীয় শৃংখলাভঙ্গের অভিযোগ যাদের ব্যাপারেই আসবে তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রার্থী সিলেকশনের ব্যাপারে রবিন বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত তৃণমূলের মতামত নিয়ে ৩ জনের নাম পাঠানো হয়েছিল। এরমধ্যে ওবায়দুল হাসান ববিও একজন ছিলেন। পরে নেত্রী তাকেই মনোনয়ন দেন।

জানতে চাইলে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুর রহমান দুলু বলেন, দলের ভিতরে বিভক্তি স্পষ্ট। শহরে ওয়ার্ডের সম্মেলন অনেকদিন করা হয় না। শহর আওয়ামী লীগ যাকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রে সুপারিশ করেছে তাকে অনেক নেতাকর্মীরাই চেনেন না।

এমএইচআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]