এখনো বাঁশে ভর করে হাঁটছে হাবিবা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৭:২১ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২১

পা হারিয়ে বাঁশে ভর করে হাঁটা সেই শিশু হাবিবাকে নিয়ে প্রতারণায় নেমেছে একটি চক্র। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অনেকে তাকে সাহায্যে এগিয়ে আসার আগ্রহ প্রকাশ করে। তবে ওই চক্রটি প্রকাশিত সংবাদের বিভিন্ন ‘অযাচিত’ মন্তব্য করে ধূম্রজাল সৃষ্টি করছে।

একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে হাবিবাকে কৃত্রিম পা দেয়া কিংবা তার সব সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে দাবি করা হলেও মূলত এটিও প্রতারকদের কাজ বলে জানায় হাবিবার পরিবার।

হাবিবার স্বজনদের দাবি, সাহায্যের কথা বলে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি ভাইরাল করলেও তারা একটি বারের জন্যও হাবিবা কিংবা তার পরিবারের খোঁজ নেয়নি।

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বাদলা গ্রামের নুরুল আমিনের মেয়ে হাবিবা। বাবা রিকশা চালিয়ে ও দিনমজুরের কাজ করে পরিবারের ভরণ-পোষণ চালান। হাবিবার বয়স তখন তিন বছর। নানির সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় কিশোরগঞ্জ যাচ্ছিল। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় হাবিবার এক পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেই থেকে শুরু কষ্ট নামক গল্পের।

তার বাবা-মার বিশ্বাস, তাদের প্রিয় সন্তানের পাশে কেউ না কেউ অবশ্যই দাঁড়াবে। আবার স্বাভাবিকভাবে হাঁটবে ছয় বছরের একমাত্র সন্তান হাবিবা

গতকাল বুধবার হাবিবাদের বাড়ি গিয়ে দেখা গেছে, এক টুকরো ছোট্ট বাঁশের চোঙ্গায় কাটা পা ঢুকিয়ে উঠানে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছে শিশু হাবিবা। বেশিক্ষণ এভাবে হাঁটতে পারে না সে। ব্যথায় চিৎকার করে উঠে।

হাবিবার মা জানান, তাদের দরিদ্র পরিবার। অনেক বেলাই না খেয়ে থাকতে হয় তাদের। গত প্রায় দুই বছর ধরে বাঁশের টুকরোয় ভর করে হাঁটছে মেয়েটি।

তিনি আরও জানান, কিছুদিন আগে কয়েকজন তার মেয়ের ছবি ফেসবুকে দেয়ার পর একটি প্লাস্টিকের পা দেয়া হলেও সেটি ব্যবহার অনুপযোগী। পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। তাই বাঁশের টুকরোই তাদের ভরসা।

পার্শ্ববর্তী গ্রামের কিশোর আল-মাসুদ ভূঁইয়া ইমরানের অভিযোগ- ‘স্থানীয় একটি প্রতারক চক্র একটি ফাউন্ডেশনের নাম করে নিজেরা লাভবান হচ্ছে।’

স্বজনরা জানান, হাবিবার পায়ে অপারেশন করে উন্নত মানের পা লাগালেই তার পক্ষে হাঁটা সম্ভব। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাসহ সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন হাবিবার স্বজনরা।

বিস্তারিত জানতে হাবিবার মায়ের ফোন নম্বর 01567965370 অথবা তার বাবার ফোন নম্বরে 01810 517 054 যোগাযোগ করা যাবে।

নূর মোহাম্মদ/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]