সংসার টেকাতে শিশু অপহরণ, রোগী-বৈদ্যের যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৯:০৮ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২১
ফাইল ছবি

কক্সবাজারে অপহরণের পর ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নারীসহ দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত-১ এর বিচার মোসলেহ্ উদ্দিন এ রায় দেন। রায়ে উভয়কে আরও ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের সাত ঘরিয়াপাড়া এলাকার মৃত নজির আহম্মদের ছেলে শহীদুল্লাহ বৈদ্য (৫৫) এবং একই উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের সিকদার পাড়া এলাকার নুরুল আবছারের স্ত্রী শাহজাহান বেগম।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি তাপস রক্ষিত বলেন, মামলায় বাদী, ভিকটিম, তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ আদালতে সাতজন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত শহীদুল্লাহকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ আরও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই মামলায় শাহজাহান বেগমকে ধর্ষণে সহযোগিতা করার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ আরও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের সিকদার পাড়া এলাকার জনৈক নুরুল আবছারের স্ত্রী শাহজাহান বেগম দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামীর সাথে বনিবনা হচ্ছিল না। সংসারের সমস্যা দূর করতে তিনি বদরখালী ইউনিয়নের সাত ঘরিয়াপাড়া এলাকার নজির আহম্মদের ছেলে শহীদুল্লাহ বৈদ্যের (৫৫) শরণাপন্ন হন। বৈদ্য তাকে ১০ বছরের শিশু কন্যার প্রয়োজনের কথা বলেন। বৈদ্যের কথামতে বাদীর মেয়েকে ২০১৮ সালের ৯ ডিসেম্বর অপহরণ করে বৈদ্যের বোনের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ওই শিশু শাহীদুল্লাহার হাতে ধর্ষণের শিকার হন শিশুটি।

এ ঘটনায় পরদিন ১০ ডিসেম্বর সকালে ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত শাহজাহান বেগম। পরে ওই শিশু পরিবারের কাছে বিষয়টি খুলে বলেন।

পরে এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়। তদন্ত শেষে গেল ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেন। দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) আদালত চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা কাটগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

সায়ীদ আলমগীর/আরএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।