বগুড়ায় ছাত্রলীগ নেতা রউফ বহিষ্কার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বগুড়া
প্রকাশিত: ০৩:৩৫ এএম, ১৭ মার্চ ২০২১

শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকায় বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস। প্রসঙ্গত, বগুড়ায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তাকবির ইসলাম। তাকবির জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

মৃত্যুর আগে তার ওপর হামলার বর্ণনা দিয়ে গেছেন তিনি। এর একটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। ভিডিওতে নিহত তাকবির বলেছিলেন আব্দুর রউফ নিজেই তাকে ছুরকাঘাত করেছেন।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

ছাত্রলীগ নেতা তাকবির ওই ভিডিওতে বলেন ‘আমার ডান পায়ে হাঁটুর নিচে ফ্র্যাকচার হইছে। ওখানে এসএফ পাইপ দিয়ে আর রড দিয়ে মারছে; চাপাতি দিয়ে আঘাত করছে। বাঁ হাতের কব্জিৎতে আর কনুইয়ের মাঝখানেও মারছে, সেখানে ফ্র্যাকচার হইছে, ওখানে দুটা সেলাইও পড়ছে।

মাথার পেছনে চারটা সেলাই পড়ছে, ওখানে চাপাতি দিয়ে আঘাত করছে। আমার কোমরের পাঁজরের নিচে দুই পার্শ্বেই দুটি স্টেপ (ছুরিকাঘাত) করেছে, আট ইঞ্চি করে ক্ষত হইছে। চারবারে আটটা সেলাই পড়ছে, স্টেপটা রউফ নিজেই করছে। শরীরে আরো অনেক জায়গায় ক্ষত হইছে, পুরো শরীরে পিটিয়েছে।’

১১ মার্চ বৃহস্পতিবার রাতে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। শহরের টেম্পল রোডে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ সময় ছাত্রলীগ নেতা তাকবিরসহ দুই গ্রুপের অন্তত ৯ জন আহত হন। সংঘর্ষের ঘটনায় সদর থানায় দুটি পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হয়। শনিবার পৃৃথক দুটি মামলা করেন তাকবির ইসলামের মা আফরোজা ইসলাম ও আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য সোহাগ হাসান।

ছাত্রলীগ নেতা তাকবিরের মায়ের করা মামলায় সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফকে প্রধান আসামি করা হয়। রউফসহ এ মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৩০ থেকে ৩৫জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় অন্য নামীয় আসামীরা হলেন- জাহিদ হাসান, আনোয়ার হোসেন, তারেক, বিধান চন্দ্র মোহন্ত, নিশাদ ও আরমান।

ছাত্রলীগ নেতা সোহাগের করা মামলায় তাকবিরকে প্রধান আসামি করা হয়। তাকবিরসহ এ মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাত আরো ২০ থেকে ২৫জনকে আসামি করা হয়েছে।

সোহাগের করা মামলায় অন্য নামীয় আসামীরা হলেন- তোফায়েল আহমেদ, হাসিবুল হাসান শান্ত, আব্দুল্লাহ ঈমন, জয় কুমার দাস, শাহাদত জামান সঞ্জয়, সামিউল পরান সজল, সিজান রহমান, ফেরদৌস আলম সাফি, মাহবুবুল সাফিন, হাবিবুর রহমান ও মেহেদী হাসান।

বগুড়া/এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।