তিন প্রজন্মকে খেল সুন্দরবনের বাঘ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০২:৫৩ পিএম, ১৭ মার্চ ২০২১

আবুল কালাম। ডাক নাম কালু। তিন ভাই একসঙ্গে সুন্দরবনে গিয়েছিলেন গোলপাতা কাটতে। মঙ্গলবার কাচিকাটার উত্তর খালে জঙ্গলে নেমে গোলপাতা কাটছিলেন বাওয়ালীরা। হঠাৎ বাঘের হানা।

কালুকে ধরে নিয়ে যায় সুন্দরবনের বাঘ। সঙ্গীরা পিছু নেন। বিকেলের মধ্যেই বাঘের মুখ থেকে কেড়ে আনেন কালুর মরদেহ। গভীর রাতে লাশ নিয়ে লোকালয়ে ফেরেন বাওয়ালীরা।

কালুর বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কুকুর গ্রামে।

জানা যায়, তার বাবা আতিক গাজী ও দাদাকেও খেয়েছিল সুন্দরবনের বাঘ।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে সুন্দরবনের কাছিকাটা এলাকার পায়রাটুনি খালে গোলপাতা আহরোণের সময় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা জি এম মাসুম বিল্লাহ জানান, এর আগে কালুর বাবা ও দাদা সুন্দরবনেবাঘের হামলায় নিহত হন।

আটুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সালে বাবু জানান, ১০ বছর আগে তার বাবাকে একই এলাকার একই স্থান থেকে বাঘে ধরে নিয়ে যায়। পরে কালাম এলাকাবাসী ও বন বিভাগের লোকদের সাথে নিয়ে বাবার লাশ উদ্ধার করে আনে। নিয়তির কি নির্মম খেলা তাকেও সেখান থেকে বাঘে ধরে। তার মৃতদেহটিও সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের তরফ থেকে কালামের পরিবারকে কিছু সহযোগিতা করা হয়েছে। বাঘের হামলায় নিহত হলে সরকারি কিছু অনুদান পাওয়ার কথা। কিন্তু অনেকে সেটি পায় না। বাঘের হামলায় নিহত হলে পারিবারকে এক লাখ টাকা ও আহত হলে চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা দেয়ার সরকারি নিয়ম আছে।

এফএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]