বগুড়ায় ৭ প্রকল্পের কাজ রেখে ঠিকাদার উধাও

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৪:৪৪ পিএম, ১৭ মার্চ ২০২১

বগুড়ার ধুনট পৌর এলাকায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণসহ প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ফেলে রেখে উধাও হয়ে গেছে ঠিকাদাররা। এরমধ্যে একটি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ শুরু করা হয়নি। এতে পৌর এলাকায় চলাচলে লোকজনকে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জানা গেছে, নাগরিকের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য নতুন সড়ক নির্মাণ, পুরাতন সড়ক সংষ্কার, পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ, কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ এবং পৌর শিশু পার্কের সীমানা নির্মাণসহ ৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৯৭ হাজার ৭৫২ টাকা। পৌর কর্তৃপক্ষ দরপত্র আহবানের মাধ্যমে দুই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দিয়েছে। কিন্তু ঠিকাদাররা এসব প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখায় পৌরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

প্রকল্প গুলোর মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ধুনট পোষ্ট অফিস হতে হলহলিয়া নদী পর্যন্ত ৩০০ মিটার ড্রেন নির্মাণ ও আর্সেনিক মুক্ত ১৪৬টি হস্ত চালিত নলকূপ স্থাপন। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৯ লাখ টাকা ৯৪ হাজার ৬৯৮ টাকা। মেসার্স রুনা এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি কার্যাদেশ দেয়া হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে। কিন্তু ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৫০ শতাংশ কাজ করে বরাদ্দের ৪৯ লাখ ৯১ হাজার ৫০৯ টাকা উত্তোলন করেছে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় পূর্ব ভরণশাহী জান্নাতুল মাওয়া কবরস্থান ও চরধুনট জান্নাতুল ফেরদৌস কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ এবং শিশু পার্কের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮লাখ ৫৪ হাজার ৭৫০ টাকা। মেসার্স সুমাইয়া ট্রেডার্স নামে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ২০১৯ সালের ৯ জুন কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ওই কাজের সময় ছিল ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্পের ৭০ শতাংশ কাজ করে ঠিকাদার ৫ লাখ ৯১ হাজার ৬৫৫ টাকা উত্তোলন করেছে।

jagonews24

গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাইপাস সড়ক হতে মাটিকোড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত ৫২০ মিটার সড়ক সংষ্কার এবং ধুনট-গোসাইবাড়ি সড়ক হতে জিঞ্জিরতলা জামালের বাড়ি হয়ে বিসি সড়ক পর্যন্ত আরসিসি ৩৮৫ মিটার রাস্তা নির্মাণ। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯ লাখ ৪৮ হাজার ৩০৪ টাকা। মেসার্স সুমাইয়া ট্রেডার্স নামে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ওই কাজের সময় ছিল ২০২০ সালের ৬ জুন পর্যন্ত। ঠিকাদার কাজ না করেই ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪২ টাকা উত্তোলন করেছে।

মেসার্স সুমাইয়া ট্রেডার্সের মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার লাইসেন্সে ঠিকাদার মোমিন সোহেল ও সাবেক কাউন্সিলর দয়াল চন্দ্র প্রকল্পের কাজ নিয়েছেন। কিন্তু তারা সময় মত কাজ শেষ করতে পরেননি। তাদের বার বার তাগিদ দেওয়ার পরও কাজ শেষ না করায় আমি কাজ গুলো শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

মেসার্স রুনা এন্টারপ্রাইজের মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা দুর্যোগের কারণে প্রকল্পের কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছিল। দুই একদিন পরই কাজ শুরু করে দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে।’

ধুনট পৌর সভার মেয়র এজিএম বাদশাহ বলেন, ‘পৌর এলাকায় ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখার কারণে মানুষের কষ্ট হচ্ছে। এ জন্য আমি এলাকাবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। যত দ্রুত সময়ে প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।’

আরএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।