রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি
কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালীতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তদন্তে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন।
তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ড তদন্তে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ডিআইজি সাংবাদিকদের জানান, দুপুর পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পেয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজন শিশু ও দুজন বয়স্ক লোক রয়েছেন।
এদিকে, মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) বিকেলে ৪টার দিকে ক্যাম্পে কাজ করা এনজিওদের সমন্বয়কারী সংস্থা ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেটর গ্রুপ- আইএসসিজির যোগাযোগ ও গণসংযোগ কর্মকর্তা সাইয়্যেদ মো. তাফহীম এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছেন, কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালীতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন প্রায় ৫ হাজার ৬০০জন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪০০ রোহিঙ্গা।

আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার বসতবাড়ি। এতে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় অর্ধলাখ রোহিঙ্গা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাসপাতাল, বিতরণ কেন্দ্র, শিখন কেন্দ্র, নারীবান্ধব পরিসেবাসহ প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো।
আইএসসিজির ক্যাম্প ভিত্তিক কর্মকাণ্ড তদারকির জন্য তৈরি (১৮ জানুয়ারি) একটি ডাটাবেজের হিসাব অনুসারে জানা গেছে, বালুখালীর ক্যাম্প ৮-ইতে ঘরের সংখ্যা ৬ হাজার ২৫০ আর লোকসংখ্যা ২৯ হাজার ৪৭২ জন, ৮-ডব্লিউ ক্যাম্পে বাড়ি ৬ হাজার ৬১৩টি আর লোকসংখ্যা ৩০ হাজার ৭৪৩ জন, ক্যাম্প ৯-এ বাড়ি ৭ হাজার ২০০টি আর লোকসংখ্যা ৩২ হাজার ৯৬৩ জন এবং ক্যাম্প ১০-এ বাড়ি ৬ হাজার ৩২০টি আর লোকসংখ্যা ২৯ হাজার ৭০৯ জন। এ হিসেবে চার ক্যাম্পে বাড়ির সংখ্যা ছিল ২৬ হাজার ৩৮৩টি। আর এসব ক্যাম্পে জনসংখ্যা ছিল এক লাখ ২২ হাজার ৮৮৭ জন।
মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. শামসুদ্দোজা নয়ন জানান, ঘটনাস্থলে প্রশাসনের কয়েক স্তরের কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে ঘটনা তদারকি করছেন। এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ১৫ হাজার ঘর পুড়ে গেছে। এসব ঘরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার বিকেলে জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুনে এ পর্যন্ত সাতজন মারা যাওয়ার তথ্য সরকারি পরিসংখ্যানে রয়েছে। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্তের হিসাব প্রায় ১০ হাজার। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাসপাতাল, বিতরণ কেন্দ্র, শিখন কেন্দ্র, মহিলা বান্ধব পরিষেবাসহ প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো। আগুনে পুড়ে গেছে কয়েকশ বাংলাদেশি পরিবারের বসতবাড়িও। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবিও বিরামহীন কাজ করে।
উল্লেখ্য, সোমবার (২২ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে উখিয়ার বালুখালীর ৮-ই ও ডব্লিউ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী ৯ ও ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও। সর্বশেষ রাত ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও পুড়ে যায় প্রায় সাড়ে ১০ হাজারেও বেশি রোহিঙ্গাদের ঝুপড়ি ঘর। এছাড়া পুড়ে গেছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এনজিও অফিস ও পুলিশ ব্যারাক।
সায়ীদ আলমগীর/এসজে/এএসএম