শিবচরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীকে জরিমানা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
প্রকাশিত: ০৮:৩৪ পিএম, ২৮ মার্চ ২০২১

বহিরাগতদের প্রবেশ করিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ (ইপিউ) নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ মার্চ) রাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে শিবচরের নিলখী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াসিম মাদবরকে এ জরিমানা করেন।

এলাকাবাসী ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে কিছু বহিরাগত লোক সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা-মেট্রো-খ ১৩-১৭৫৬) নিয়ে নিলখী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াসিম মাদবরের বাড়িতে এসে অবস্থান করেন। তারা ওয়াসিম মাদবরের পক্ষে স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকার নিয়ে ঘুরে কলাতলা, নিলখীবন্দর, বাগমারাসহ নির্বাচনী এলাকা ভোটারদের কাছে ভোট চান।

প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা সংসদ সদস্যের স্টিকার দেখে প্রশাসনকে জানান। নির্বাচন চলাকালীন বিষয়টি আচরণবিধি লঙ্ঘন হওয়ায় শিবচর থানা পুলিশ ওই প্রাইভেটকারসহ চেয়ারম্যান ও বহিরাগতদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নিয়ে আসেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অপরাধে ওয়াসিম মাদবরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকারের আরোহী তাশিক মির্জা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জার ছেলে বলে নিজেকে পরিচয় দেন।

ওয়াসিম মাদবর জানান, ‘সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো গাড়িতে ছিলেন বসুরহাটের পৌর মেয়র কাদের মির্জার ছেলে। তার নাম তাশিক মির্জা। সে আমার ভাগনে রাইসুল ইসলাম অনিকের বন্ধু। সে শিবচরে এসেছিল। আমার ভাগনের বন্ধু হওয়ায় সেই সুবাদে রাতে আমার নির্বাচনী এলাকা নিলখীতে এসেছিল তাশিক। এর বেশি কিছু নয়। তাশিক মির্জা আমার নির্বাচনে কোনো প্রচারণা চালায়নি। তবে জরিমানার টাকা আমি প্রদান করিনি। ওই টাকা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে কে পরিশোধ করেছে সেটা আমি জানি না।’

শিবচর থানার উপ-পরিদর্শক বরুন হিরা জানান, স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকারের আরোহী তাশিক মির্জা নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জার ছেলে বলে নিজেকে পরিচয় দেন। প্রাইভেটকারটি পরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিরাজ হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ওই প্রাইভেটকারটি শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে নিয়ে আসে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার যাচাই-বাছাই করে ওই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে অর্থদণ্ড করেন। আটক প্রাইভেটকারের আরোহী তাশিক মির্জা চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়াসিম মাদবরের ভাগনে রাইসুল ইসলাম অনিকের বন্ধু। ওই সুবাদে মামার নির্বাচন করার জন্য প্রভাব খাটাতে সংসদ সদস্যের ব্যবহৃত গাড়ি নিয়ে আসেন।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বহিরাগতদের প্রবেশ করিয়ে শিবচরের আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় নিলখী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়াসিম মাদবরকে জরিমানা করা হয়েছে।

এমএসএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।