ইউপি চেয়ারম্যানের হাত থেকে জমি রক্ষায় ডিসি অফিসে ৫ ভাই

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০৭:২৮ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২১

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি কারখানার পক্ষ নিয়ে নিরীহ মানুষের জমি দখল করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি)চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে একই পরিবারের ভুক্তভোগী পাঁচ ভাই জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তারা অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের হাত থেকে তাদের জমি রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জাানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীরা হলেন-বৃদ্ধ মারফত আলী (৮০), তার ভাই আশ্রাব আলী (৭৫), আবেদ আলী (৭০) এবং দুই চাচাত ভাই সমিজ উদ্দিন (৫০) ও আতাবুল্লাহ (৪২)।

জমির মালিক বৃদ্ধ মারফত আলী বলেন, শ্রীপুরের মাওনা উইনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম খোকন তার তিন ভাইয়ের তিন বিঘা, সমিজ উদ্দিনের এক বিঘা এবং আতাবুল্লাহর আড়াই বিঘা জমি একটি কারখানার হয়ে সীমানা প্রাচীর দিয়ে দখল করে নিচ্ছেন। জমিতে বাড়িঘর রয়েছে। এলাকার নেতা ও পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েও তারা কোনো প্রতিকার পাননি। কারো কথায়ই আমলে নিচ্ছেন না চেয়ারম্যান।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এক ইঞ্চি জমিও বিক্রি করিনি। থানায় অভিযোগ করেছি, জিডি করছি। কয়েক দফা থানা পুলিশ এসে চেয়ারম্যানকে কাজ বন্ধ রাখতে নিষেধ করেছেন। কোনো কিছুতেই কিছু হয়নি। সে তার মতো বাউন্ডারি (প্রাচীর) করেই চলেছে। সোমবার থানায় চেয়ারম্যান এবং আমাদের কাগজপত্র নিয়ে ওসি স্যার বসেছিলেন। চেয়ারম্যান কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় কাজ বন্ধ রাখতে বলেন ওসি। চেয়ারম্যান ওসির কথাও শোনেননি।’

jagonews24

স্ত্রী-সন্তানদের দেখিয়ে অসহায় এই বৃদ্ধ বলেন, ‘কোথায় যাব, কোথায় ঘুমাব ভেবে পাচ্ছিলাম না। রাত পোহালে লকডাউন ও রোজা। তাই শেষ ভরসা মনে করে এখানে আসছি ডিসি স্যারকে জানাতে। এসে শুনি তিনি করেনায় আক্রান্ত হয়ে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখন কোথায় যাব ভেবে পাচ্ছি না।’

মারফত আলীর চাচাতো ভাই আতাবুল্লাহ বলেন, ‘গত ৪ এপ্রিল সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি চেয়ারম্যান ২০-২৫ জন লোক নিয়ে জমিতে পাকা সীমানা প্রাচীর করছেন। নিষেধ করতে গেলে দা, লাঠি নিয়ে তাড়া করেন। তিনি আওয়ামী লীগের বড় নেতা। এলাকার বহু মানুষের জায়গা-জমি তিনি দখল করে নিয়েছেন। তার কাছে পুরো এলাকা জিম্মি।’

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন জানান, জমির দলিল দেখাতে না পারায় চেয়ারম্যানকে সোমবার কাজ করতে নিষেধ করা হয়। তবে তিনি কথা না শোনায় মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। এ সময় চেয়ারম্যান দৌড়ে পালিয়ে যান।

আমিনুল ইসলাম/এসআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]