পুলিশের বদৌলতে নিখোঁজ মর্জিনাকে ফিরে পেল সন্তানরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৩:১৯ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০২১

সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের বিরুদ্ধে অনেক নেতিবাচক ধারণা আছে। কিন্তু মানবতার অনেক কাজ দেখিয়েও প্রশংসা কুড়িয়েছে পুলিশ। তেমনি রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা মর্জিনা বেগম (৮০) নামের এক বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়ে মানবতা দেখিয়েছে নওগাঁর মহাদেবপুর থানা পুলিশ। নিখোঁজের দু্বছর পর মাকে পেয়ে খুশি তার সন্তানরাও।

jagonews24

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল রাত সাড় ১০টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ থেকে ফোনে জানানো হয় উপজেলা সুজাইল রাস্তার পাশে এক বৃদ্ধা নারী অভুক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তার বয়স প্রায় ৯৫ থেকে ১০০ বছর হবে।

ফোন পাওয়ার কিছু সময়ের মধ্যে মহাদেবপুর থানা পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে। সেখানে তার জন্য পানীয় এবং আহারের ব্যবস্থা করা হয়।

jagonews24

তিনি শারীরিকভাবে এতোই দুর্বল ছিলেন যে কথাও ছিল অস্পষ্ট। নিজের নাম পরিচয় ও ঠিকানা ঠিকমতো বলতে পারছিলেন না। তাকে উদ্ধার করে থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।

jagonews24

এ বিষয়ে শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজম উদ্দিন বলেন, ‘বৃদ্ধা মর্জিনা বেগমের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি আমরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তার ছবি ছড়িয়ে দিয়ে পরিচয় জানার জন্য চেষ্টা করি। অবশেষে তার সঠিক পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান মিয়ার নির্দেশে বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে রাজশাহীর পবা থানার হাটপারিলা গ্রামে বৃদ্ধার বাড়িতে উপস্থিত হই। তার ছেলে মজিবরের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।’

jagonews24

বৃদ্ধার পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি আরও বলেন, ‘প্রায় দুই বছর আগে স্বামী পরিত্যক্তা মর্জিনা বেগম তার ছেলে মজিবরের সঙ্গ বসবাসকালে নিখোঁজ হন। মর্জিনার তিন মেয়ে ও এক ছেলে। দুই বছর যাবত ছেলেমেয়েরা তাদের মাকে খোঁজাখুঁজি করে কোথাও পায়নি। মাকে না পাওয়ার পর তারা আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। মর্জিনা বেগমকে দুবছর পর ফিরে পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।’

আব্বাস আলী/এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।