ককটেল কেড়ে নিল ছোট্ট মহরমীর দুই চোখের আলো

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:৫৭ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০২১

তিন বছরের ছোট বোন মারিয়াকে নিয়ে বাড়ির সামনের একটি বাগানে খেলা করছিল পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মহরমী খাতুন। এ সময় ছোট বোন মারিয়া ক্রিকেট বলের মত দেখতে স্কসটেপ মোড়ানো একটি কৌটা মহরমীর হাতে এনে দেয়। কোটাটি খেলার বস্তু ভেবে একটি দেয়ালে আঘাত করে মহরমী। আর এতেই সব শেষ হয়ে যায়।

বিস্ফোরণে উড়ে যায় মহরমীর ডান হাতের কব্জি। মারাত্মকভাবে জখম হয় দুই চোখে। নিমিষেই অন্ধকার হয়ে যায় মহরমীর জীবন।

মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে মহরমীর বাড়িতে গেলে কথা হয় জাগো নিউজের এই প্রতিনিধির সঙ্গে।

সে জানায়, ১ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার গণকা মহল্লায় থাকে তারা।

মহরমীর মা মাসকুরা জানান, ককটেল বিস্ফোরণে তার মেয়ের ডান হাতের কবজি উড়ে যায়। দুই চোখে আঘাত পায়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বলেন, মহরমীর এক চোখ পুরো নষ্ট হয়ে গেছে এবং অন্য চোখের দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার আশা ক্ষীণ।

এরপর মহরমীকে প্রথমে ঢাকায় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এবং পরে বাংলাদেশ আই হসপিটাল লিমিটেডে চিকিৎসা করানো হয়। প্রথমে মেয়ের এক চোখে কিছুটা দেখতে পাওয়ার আশার কথা থাকলেও আড়াই মাস পর জানানো হয়, আর কোনো আশা নেই। দুই চোখই নষ্ট হয়ে গেছে।

মহরমীর দাদা আবদুল কাইউম বলেন, মহরীমার চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। আমরা এর বিচার দাবি করছি। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করছি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, দুটি পক্ষের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চারটি মামলা করেছে। এক মামলার দুই পক্ষের আসামিরাই অন্য মামলাগুলোরও আসামি। মহরমীর কবজি উড়ে যাওয়া ও চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দায় তারা এড়াতে পারে না।

সোহান মাহমুদ/জেডএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]