শসার দাম পেয়ে খুশি চাষিরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৭:০৬ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০২১

নওগাঁর ধামইরহাটে শসার ফলন ভালো হয়েছে। রমজান মাস হওয়ায় বাজারে দামও বেশি। ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষিরা। উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে শসা চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়েছে। জৈব প্রযুক্তি ব্যবহার করায় কীটনাশকের খরচও কমেছে। আগামীতে আরও বেশি জমিতে শসার চাষ করবেন বলে আশাবাদী কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলায় ২৩৫ হেক্টর জমিতে শসা চাষ হয়েছে। উপজেলার পলিমাটি এলাকা হিসেবে পরিচিত ইসবপুর ও জাহানপুর ইউনিয়নে অধিকাংশ জমিতে শসার আবাদ হয়েছে। বীজ বপন থেকে মাত্র দুই মাসের মধ্যে শসা পাওয়া যায়। শসা চাষ করতে খরচ হয় কম। পোকা মাকড়ের আক্রমণ থাকলেও সঠিক সময়ে ওষুধ প্রয়োগ করতে পারলে ফসলের তেমন ক্ষতি হয় না।

jagonews24

কিছুদিন আগে বাজারে শসা ১৫-২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু রমজানের শুরু থেকে সেটি এখন ৪০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রমজানে বাজারে শসা দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের পূর্ব তাহেরপুর গ্রামের ফারজানা আক্তার বলেন, ‘আমি ৪০ শতাংশ জমিতে এবার লালতীর বারমাসি জাতের শসা রোপণ করেছি। যেখানে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকার মতো। বীজ বপনের দুই মাসের মধ্যে এখন জমি থেকে প্রতিদিন ৭-৮ মণ শসা ওঠানো হচ্ছে। রমজান হওয়ায় শসা প্রতি মণ দেড় থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাইকাররা ক্ষেত থেকে শসা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার টাকার শসা বিক্রি করেছি। আশা করছি আরও ৫০-৬০ হাজার টাকা শসা বিক্রি করতে পারব।’

ধুরইল গ্রামের কৃষক আবু হাসান বলেন, ‘আমি ২০ শতাংশ জমিতে শসা চাষ করেছি। আমার মোট খরচ হয়েছে ১৩ হাজার টাকা। এরইমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার টাকার শসা বিক্রি করেছি। বর্তমান বাজার মূল্য ভালো। এ অবস্থা থাকলে আরও ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার শসা বিক্রি হতে পারে।’

jagonews24

কৃষকরা জানান, কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনা দেয়ায় তারা শসা চাষে আগ্রহ দেখিয়েছেন। এছাড়া সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। রোগ বালাইয়ের পরিমাণ কম হওয়ায় ফলনও ভালো হয়েছে। পোকা দমনের জন্য ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করায় কীটনাশকের প্রয়োজন হয়নি। ফলন বেশি ও বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় খুশি তারা। আগামী আরও বেশি পরিমাণ জমিতে শসা আবাদ করবেন বলে জানান তারা।

ধামইরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাপলা খাতুন বলেন, ‘কৃষক স্বল্প জমিতে শসা চাষ করে অধিক লাভবান হতে পারবে। নিরাপদ সবজি চাষের জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদেরকে শসা চাষে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রদর্শনীভুক্ত কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে শসার বীজ, জৈব বালাইনাশক, পোকা দমনের জন্য ফেরোমন ফাঁদ ও ভার্মি কম্পোস্ট সার দেয়া হয়েছে। এবার কৃষক দাম বেশি পাওয়ায় আগামীতে এ অঞ্চলে ব্যাপক শসার চাষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

আব্বাস আলী/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]