যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে কৃষকের লিচু বাগান দখলের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নাটোর
প্রকাশিত: ০৭:১৯ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০২১

নাটোরের গুরুদাসপুরে ভয় দেখিয়ে বৃদ্ধ কৃষকের সাড়ে ৬২ শতাংশ লিচু বাগান পাঁচবছর ধরে জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক আফতার খাঁ (৭২)। স্থানীয়রা আফতার খাঁর পক্ষে কথা বললেও ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না।

জানা গেছে, উপজেলার মশিন্দা চরপাড়া গ্রামের মৃত জহির খাঁর ছেলে আফতার খাঁ চাঁচকৈড় খলিফাপাড়া গ্রামের মৃত মানু প্রামাণিকের দুই ছেলে আবুল কাশেম ও রেক মামুদের কাছ থেকে ১৯৭২ সালে মশিন্দা মৌজায় সাড়ে ৬২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। সেই জমিতে আফতার খাঁ ৪২টি লিচুর গাছ লাগিয়ে ৪৯ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। তবে একই গ্রামের মৃত রেক মামুদ ওরফে রেকাতের পুত্র মশিন্দা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন (৪০) পাঁচবছর আগে লিচুর গাছসহ ওই জমিটি দখল করে নেন।

সরেজমিন ও দলিলপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, লিচু বাগানটির প্রকৃত মালিক আফতার খাঁ। শুধু তাই নয়, আরএস ৪১৬ খতিয়ানের ২৭১৬ ও ২৭১৭ দাগের সাড়ে ৬২ শতাংশ জমি দলিল ও দখলমুলে ভোগদখল করছেন তিনি। এমনকি হালনাগাদ খাজনা খারিজ সবই আছে আফতার খাঁর নামে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের নালিশী লিখিত রায়ও প্রমাণ করে ওই লিচু বাগানের মালিক আফতার খাঁ।

জমির দলিল ও রেকর্ড সূত্রে জানা গেছে, জমির মূল মালিক মৃত ঝুমুর প্রামাণিকের ছেলে মৃত আসান্দি প্রামাণিক। আসান্দির কাছ থেকে ১৯৬৩ সালের ৭ মার্চ জমিটি ক্রয় করেন মৃত আজগর আলী। আজগর আলীর কাছ থেকে ১৯৭০ সালের ১৪ ডিসেম্বর আবুল কাশেম ও রেক মামুদ জমিটি ক্রয় করেন এবং ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ তাদের কাছ থেকে ওই জমি ক্রয় করেন আফতার খাঁ।

জমি দখলে নেয়া যুবলীগ নেতা জামাল উদ্দিন এ ব্যাপারে উপযুক্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তার দাবি, জমিটি তার মা সুখজানের অংশ। সুখজান উমির কাজীর নামে রেকর্ড সূত্রে অংশীদার।

কৃষক আফতার খাঁ অভিযোগ করেন, যুবলীগের তকমা গায়ে লাগিয়ে জামাল উদ্দিন জমিটি দখল করে আছেন। আর জমিটি ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন দফতরে ধর্না দিলেও কাজ হচ্ছে না। এ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সালিস হলেও জামাল কৌশলে সময়ক্ষেপণ করেন এবং বিভিন্নভাবে তা ভণ্ডুল করে দেন। তার দাপটের কাছে এলাকার মানুষ অসহায়।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এটা তো ভুমি অফিসের ব্যাপার। তারপরেও অভিযোগ পেলে আমরা ব্যববস্থা নেব।’

রেজাউল করিম রেজা/এএএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]