ফেনীতে শ্রমিক-ব্যবসায়ীর কোটি টাকা নিয়ে উধাও ইটভাটা মালিক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৮:৫২ এএম, ০৪ মে ২০২১

ফেনীর ফুলগাজীতে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের প্রায় দেড় কোটি টাকা নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন নিউ পরফুল ব্রিকস নামের একটি ইটভাটা মালিক। বেশ কিছুদিন খোঁজাখুঁজির পর মালিকের সন্ধান না পেয়ে মানববন্ধনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

ক্ষতিগ্রস্ত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর যাবত ফুলগাজীর সদর ইউনিয়নের বৈরাগপুর গ্রামে নিউ পরফুল ব্রিকস নাম দিয়ে ইট প্রস্তুত ও বিক্রি করে আসছেন স্থানীয় মাহমুদুল হাসান। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তিনি ইট প্রস্তুত করতে পরিচিত-স্বজন ও বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান থেকে ইট দেয়ার শর্তে লাখ লাখ টাকা অগ্রিম আদায় করেন। গত ২৩ মার্চ (মঙ্গলবার) রাত থেকে হাসানের কোনো সন্ধান না পেয়ে পাওনাদাররা বিভিন্নভাবে খোঁজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার খোঁজ মিলছে না বলে পরিবার থেকে জানিয়ে দেয়া হয়।

jagonews24

সূত্র জানায়, অন্তত ৬১ ব্যক্তির কাছ থেকে হাসান ইট দেয়ার কথা বলে এ কোটি ১৫ লাখ টাকা অগ্রিম আদায় করেছেন। এরমধ্যে তিনি কয়েকজন ব্যক্তিকে কিছু ইট দিয়ে বাকি সব টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। অগ্রিম দাতাদের মাঝে ছয়জন গ্রাহকের টাকার পরিমাণ ৯৯ লাখ টাকার উপরে।

পরশুরাম বাজারের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম মোমিন জানান, দুই লাখ ৯৩ হাজার পিস ইটের জন্য তিনি হাসানের কাছে অগ্রিম ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। এরমধ্যে তিনি ৩৩ হাজার ৫শ’ পিস ইট বুঝে পেয়েছেন। বাকি ইট নেয়ার আগেই হাসান পালিয়ে গেছেন। এমতাবস্থায় তিনি হাসানের নামে উকিল নোটিশ দিয়েছেন। লকডাউন শেষ হলে আদালতে মামলা করবেন।

শ্রীপুর এলাকার বীমা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, তিন লাখ ৬৮ হাজার পিস ইটের জন্য তিনি হাসানকে ২৮ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। ৬৫ হাজার পিস ইট পেলেও বাকিগুলো না দিয়ে ভাটা মালিক টালবাহানা শুরু করে। এখন তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছেনা।

jagonews24

একইভাবে দৌলতপুর সাহাপাড়া এলাকার মদনসাহা দুই লাখ ইটের জন্য ১২ লাখ টাকা, গোসাইপুর গ্রামের শামীম মজুমদার লাখ লাখ ইটের জন্য ৭ লাখ টাকা ও পরশুরামের বসন্তপুর এলাকার দেলোয়ার হোসেন ২০ হাজার ইটের এক লাখ টাকা ও ঠিকাদার নবী চার লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্তরা একত্রিত হয়ে ফুলগাজী শহরে মানববন্ধন করের।

এদিকে ভাটার মাঝি মো. ছাদেক মিয়া জানান, প্রায় ৪০-৪৫ জন শ্রমিকের বিগত কয়েক মাসের মজুরি বাকি রয়েছে। ঈদের সময় সবার বকেয়া মজুরি পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু ঈদের আগেই হাসান সাহেবের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেনা। তার কাছে শ্রমিকরা অন্তত ১০ লাখ টাকা মজুরি পাওনা রয়েছে।

ইটভাটার ম্যানেজার সপ্তম সাহা জানান, মানুষ হাসান সাহেবের কাছে ইটের জন্য অগ্রিম টাকা দিয়েছে। সেটাতো আমার জানার বিষয় নয়। কারো টাকার জন্য দায়িত্ব আমার নেই। তারপরও মানুষ আমাকে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে পাওনা টাকার জন্য। আমি নিজেও ভাটা মালিকের কাছে চার মাসের বেতন পাওনা রয়েছি।

jagonews24

ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল আলিম মজুমদার জানান, অনেক গ্রাহকের টাকা নিয়ে ভাটা মালিক হাসানের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ক্ষতিগ্রস্তরা আমাকে জানিয়েছে। আমি তাদেরকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিয়েছি।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কুতুব উদ্দিন জানান, মানুষের কোটি টাকা নিয়ে ইটভাটা মালিক হাসান পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি মানুষের মুখে আমি জানতে পেরেছি। কিন্তু কেউ আইনি সহযোগিতার জন্য থানায় আসেননি।

এদিকে ফেনী জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও স্টারলাইন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মো. জাফর উদ্দিন জানান, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে অনেক ভাটা মালিক পুঁজি সংকটে পড়ে মানুষের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে ভাটা চালু রেখেছে। অনেকেই লোকসান দিয়ে দেনাপাওনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। ফুলগাজীর ভাটা মালিক হাসানের বিষয়টি আমরা কিছু জানিনা। লোকসান সামাল দিতে না পেরে হয়তো তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন।

আরএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]