মেহেরপুর-গাংনীতে লোকাল পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মেহেরপুর
প্রকাশিত: ০৬:৫৬ পিএম, ০৭ মে ২০২১

গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হলেও লেগুনা কিংবা ইজিবাইকসহ অন্যান্য পরিবহরগুলোতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপ না থাকায় চরম অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে এই পরিবহন খাতে। ফলে করোনা সংক্রমণের চরম ঝুঁকিতে মেহেরপুর অঞ্চল বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।

চলমান লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। গণপরিবহনে কিছুটা স্বাস্থ্যবিধি মানা হলেও লেগুনা, ইজিবাইকসহ অন্যান্য পরিবহনগুলোকে কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। গাদাগাদি করে লোকজন বহন করছে।

গাংনী থেকে ছেড়ে যাওয়া হাটবোয়ালিয়ামুখী লেগুনাতে দেখা গেছে, কোনো সিট খালি রাখা হয়নি। আবার কারো মুখে মাস্ক নেই। যাত্রীদেরকে মাস্ক পরার জন্য কোনো তাগিদও দেয়া হচ্ছে না। প্রতিটি গাড়িতে ১৪ জন করে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। চালক ও কথিত স্টার্টারদের মুখেও মাস্ক দেখা যায়নি।

নসিমন করিমন আর আলমসাধু চালকদের কাছে করোনা বলে কিছুই নেই। মুখে মাস্ক দিলে নাকি গরম ধরে। চালকদের মুখে যেমন মাস্ক নেই, তেমনি যাত্রীরাও মাস্ক পরতে বেশ উদাসীন।

মুখে মাস্ক নেই কেন? এমন প্রশ্নের কোনো জবাব না দিয়ে অনেকে মাস্ক পকেট থেকে বের করছেন আবার মেয়েরা শাড়ির আঁচল মুখে টানছেন। কেউ কেউ বলছেন, আমরা ঘুষ খায়নি সুদ খায়নি কারো ট্যাকা মারি খায়নি। আমাদের করোনা হবে না’। কেউ কেউ বলছে, করোনা বলে কিছু নেই এটা একটা গুজব।

বামন্দী গামী ইজিবাইকগুলো চলছে ইচ্ছা মতো। ভাড়া দ্বিগুণ নেয়া হলেও যাত্রী কম নেয়া হচ্ছে না। প্রশাসনের লোকজনকেও চলতে দেখা গেছে ওই ইজি বাইকে। তাদের মুখেও মাস্ক নেই। ছবি তুলতে গেলে অনেকেই মুখ লুকানোর চেষ্টা করছেন।

যাত্রীরা জানান, তাদের প্রয়োজনেই বাইকে চাপতে হচ্ছে। বাইক চালকদের কোনো দোষ নেই। আবার কয়েকজন বাইক চালক বলেন, গাড়িতে একবার চার্জ দিলে যত সময় চলে আর যত টাকা খরচ হয় সেই পরিমাণ আয় হবে না যদি যাত্রী কম বহন করা হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ অনেকেই জানান, লকডাউনের প্রথমে পুলিশ মাঠে অবস্থান করে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করেছিল। মাস্কও বিতরণ করেছে। পৌর মেয়র স্ব-উদ্যোগে মাস্ক বিতরণ করেন এবং সবাইকে সচেতন হবার পরামর্শ দেন।

এখন পুলিশ বাহিনীর কোনো তৎপরতা নেই। আর উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতা আগেও ছিল না এখনও নেই। শুধু স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে নয়, জনস্বার্থে কোনো কিছু ঘটলে সেটিও এড়িয়ে চলেন উপজেলা প্রশাসন। কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলে উপজেলা প্রশাসনের জবাব ‘কেউ অভিযোগ নিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে’। আজ পর্যন্ত কোনো ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা তা জানা নেই কারো।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক এমকে রেজা জানান, করোনা মহামারি থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক পরিধানের বিকল্প নাই। মানুষের হাচি কাশি থেকে বিভিন্ন রোগ ছড়ায়। তার মধ্যে করোনা একটি। প্রতিদিন যানবাহন ও হাট বাজারে যে ধরনের জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে তাতে এ এলাকার লোকজন রয়েছে হুমকির মুখে। এখনই প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম শাওনেয়াজ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব সময় নজরদারি রয়েছে। কয়েকবার অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেয়া হয়েছে। আরও তৎপর হবে প্রশাসন বলেও তিনি জানান।

আসিফ ইকবাল/এমআরএম/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]