এক চঞ্চলের পরিবর্তে কারাগারে আরেক চঞ্চল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০২:৩৭ এএম, ০৮ মে ২০২১ | আপডেট: ০৫:০৩ পিএম, ০৮ মে ২০২১

যশোরে নামের সঙ্গে আংশিক মিল থাকায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চলের পরিবর্তে সহিদুজ্জামান সেলিম ওরফে চঞ্চলকে আটক করে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। চাঁদাবাজি ও মারপিটের একটি মামলার আসামি হিসেবে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৬ মে) রাতে শহরের রেলগেট এলাকা থেকে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আল মিরাজ খান তাকে আটক করেন।

যশোরে এর আগেও একজনের পরিবর্তে আরেকজনকে আটক করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে খবর প্রকাশ হলে আইনি প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীরা রেহাই পান।

যশোর শহরের ষষ্ঠীতলার বাসিন্দা সহিদুজ্জামান সেলিম ওরফে চঞ্চলের স্ত্রী রেশমা খাতুন জুলি অভিযোগ করেন, তার স্বামীর প্রকৃত নাম সহিদুজ্জামান সেলিম ওরফে চঞ্চল। চঞ্চলের বাবার নাম মৃত সবর আলী। চঞ্চলের জাতীয় পরিচয়পত্রেও তা উল্লেখ রয়েছে। অথচ যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের এএসআই আল মিরাজ খান ২০১১ সালের একটি মারপিটের মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চলের পরিবর্তে তার স্বামীকে ধরে নিয়ে গেছেন। ওয়ারেন্টে প্রকৃত আসামি জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চলের বাবার নাম রয়েছে মৃত ইনতাজ আলী সবর। তার ঠিকানা খড়কি রেলগেট উল্লেখ রয়েছে। আর আটক করে নেয়া চঞ্চলের বাড়ি ষষ্ঠীতলা বিপি রোডে।

রেশমা খাতুন আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে এএসআই আল মিরাজ খান রেলগেট থেকে তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যান। এসময় তার স্বামী কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখালেও পুলিশ গুরুত্ব দেয়নি। পরদিন শুক্রবার ওই মামলার ওয়ারেন্টে (এসসি-৫৯৮/১৭) তার স্বামীকে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

jagonews24

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মারপিটের ওই মামলার বাদী খড়কি কাসারদিঘি এলাকার মৃত জিয়াদ আলীর ছেলে তরিকুল ইসলাম। ১০ বছর আগের অর্থাৎ ২০১১ সালের ১৭ জুলাই তরিকুল ইসলামকে মারপিটের অভিযোগে ৭ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি (নম্বর-৫০) করেন। এই মামলার অপর পাঁচ আসামি হলেন-শহিদুল ইসলাম, জোসনা, বাবু, বিপুল হোসেন ও সোহেল।

যশোর আদালতের হাজতখানায় সহিদুজ্জামান সেলিম ওরফে চঞ্চল সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তিনি মামলার বাদী তরিকুল ইসলামকে চেনেন না। তাকে কোনোদিন মারপিটও করেননি। পুলিশ মামলার ওয়ারেন্টের আসামি জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চলের পরিবর্তে তাকে ধরে নিয়ে এসেছে।

আটককারী পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই আল মিরাজ খান জানান, চঞ্চলকে আটকের পর তিনি বাদী তরিকুল ইসলামকে ডেকে এনে তাকে শনাক্ত করেছিলেন। এরপর বাদীর দেয়া শনাক্ত সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র আদালতে দাখিলও করেছেন।

উল্লেখ্য, যশোরে এর আগে এক আসামির পরিবর্তে নামের মিলের কারণে নিরীহ ব্যক্তিকে পুলিশ আটক এবং কারাগারে পাঠানোর একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

মিলন রহমান/এসআর/এএএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]