হাজেরা বিবির কথা কেউ রাখে না

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৯:৩৮ এএম, ১৪ মে ২০২১

অল্প বয়সে বিয়ে হয় হাজেরা বিবির। বিয়ের পরপরই স্বামী নুরুদ্দিন তাকে ছেড়ে চলে যায়। তাই মনের কষ্টে আর কোনোদিন ঘর বাঁধেননি কারো সঙ্গে। মানুষের দুয়ারে দুয়ারে হাত পেতে চলছে ৭৩ বছর বয়সী হাজেরা বিবির জীবন।

বহুকাল ধরে নিঃসন্তান এই বৃদ্ধা বসবাস করতেন ফরিদপুর শহরের রেলস্টেশনের একটি বস্তিতে। কিন্তু সময়ের ফেরে সেখানেও হয়নি তার স্থায়ী বসবাস। মানুষজন তাড়িয়ে দেয় তাকে। এখন তিনি শহরের বদরপুরের তেল পাম্পের পাঁশে একটি ঝুপড়ি ঘরে কোনো রকম মাথা গুঁজে থাকেন। মাঝে মাঝে রাত কাটে পথে কিংবা প্রান্তরে।

বৃদ্ধা হাজেরা বিবি বলেন, ‘বাবা পৃথিবীতে আমার কেউ নাই। বড় হতভাগা আমি। দু’বছর আগে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে কাজ-কর্ম করে কোনোমতে চলে যেত। এখন কাম-কাজ করতে পারি না, তাইতো কেউ কাজে নেয় না, খাবারও দেয় না। তাইতো বাঁচার জন্য মানুষের দুয়ারে দুয়ারে হাত পেতে খাই। এখন আমি ভালো করে হাঁটতে পারি না। তবুও পেটের জন্য পথে জিরিয়ে জিরিয়ে লাঠি ভর দিয়ে মানুষের দুয়ারে গিয়ে হাত পাতি।’

হাজেরা বিবি আক্ষেপ করে বলেন, ‘শুনেছি- সরকার গরিব মানুষদের কত কিছু দেয়! আমি তো জীবনে কিছুই পেলাম না। কত মানুষের কাছে গেছি। সবাই শুধু কথাই দেয়, কথা দিয়ে কেউ আর কথা রাখে না।’

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুম রেজা বলেন, প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন যে, যারা গৃহহীন, ভূমিহীন ও ছিন্নমূল তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তার প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে ফরিদপুর সদর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ছিন্নমূল মানুষদের জন্য ঘরের বরাদ্দ দিচ্ছি। আমরা খাস জমি প্রাপ্তিসাপেক্ষে বিভিন্ন ইউনিয়নে তা নির্মাণ করছি।

ইউএনও বলেন, আমাদের উপজেলায় উপকারভোগীদের যাচাই-বাছাই করার জন্য একটি টাস্ক ফোর্স কমিটি আছে। আমরা এর আগেও যে বরাদ্দ আসছে তখন আমাদের অনুকূলে ফেসবুকসহ বিভিন্ন পোর্টালে এবং বিভিন্ন জায়গায় বলেছিলাম, কারো যদি কেউ এ রকম অসহায় ছিন্নমূল (হাজেরা বিবি) সন্ধানে থেকে থাকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে।

তিনি আরও বলেন, তারপরও যেহেতু আমরা আপনার মাধ্যমে হাজেরা বিবির তথ্য পেলাম। যেটা আমাদের জানা ছিল না। আমাদের দ্বিতীয় ধাপের যে ঘরগুলো আসছে, সেখানে আমরা হাজেরা বিবির পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে পারব এবং পাশাপাশি ওনার যদি খাবারের কোনো সমস্যা থাকে সে ব্যাপারেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

এআরএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]