কালীগঞ্জে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ০১:১৬ পিএম, ২১ মে ২০২১

গাজীপুরের কালীগঞ্জে কৃষি জমি ও শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের মাটি অবৈধভাবে কেটে স্থানীয় ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়নের ৭ ওয়ার্ডের সদস্য ও ওই ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নাজমুল শেখের বিরুদ্ধে। মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে পল্লী বিদ্যুতের প্রধান সঞ্চালন লাইনের বেশ কিছু খুঁটি।

স্থানীয়রা বলছেন, নাজমুল শেখের নেতৃত্বে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি জামালপুর গ্রামের কৃষি জমির মাটি অবৈধভাবে কেটে নিয়ে স্থানীয় ইটভাটায় বিক্রি করছে। ফলে ওই এলাকায় থাকা পল্লী বিদ্যুতের প্রধান সঞ্চালন লাইনের খুঁটিগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় মাটির সঙ্গে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে জানালে রোববার (১৬ মে) সকালে ইউএনও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ কালীগঞ্জ জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. কামরুজ্জমানকে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. কামরুজ্জমান জানান, জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান ফারুক মাস্টার দায়িত্ব নিয়েছেন। চেয়ারম্যান ৩ দিনের সময় চেয়েছেন। ৩ দিনের মধ্যে ওই কৃষি জমির কেটে নেয়া মাটি পূরণ করে দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

তবে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, নাজমুল মেম্বার অনেক আগে থেকেই মাটি কাটছে। মাটি কাটার ফলে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার আমি মেম্বারকে ওই খুঁটির পাশে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেছি। আমি দায়িত্ব নিয়েছি, বিষয়টি ঠিক তা না। তাছাড়া বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম অবগত।

gazipur-soil1

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা নাজমুল শেখ জানান, গত ২ বছর ধরে তিনি মাটি কেটে স্থানীয় ইটভাটায় বিক্রি করছেন। হঠাৎ করে পল্লী বিদ্যুৎ অভিযোগ আনে তাদের বৈদ্যুতিক খুঁটি ঝুঁকিতে আছে। বৈদ্যুতিক খুঁটির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা মাটি ও ইট দিয়ে মেরামত করা হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা তাসলিম বলেন, আসলে কেউ কেউ নিজের ইচ্ছায় কৃষি জমির মাটি বিক্রি করছে।সেক্ষেত্রে আমরা স্থানীয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সচেতন করার চেষ্টা করি। তবে অবৈধভাবে যদি কেউ মাটি কেটে নেয় সেক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা বা শাস্তির আওতায় আনা হয়।

তিনি আরও বলেন, কৃষি জমির উপরে পলি জমা মাটি কেউ যদি কেটে নিয়ে যায়, তাহলে সেই জমির পলি পূরণ করতে নানান জৈব সার ব্যবহারের কমপক্ষে ৩০ বছর পরে ওই কৃষি জমির উর্বরতা ফিরে আসে। তবে ওই ৩০ বছরের মধ্যে ওই কৃষি জমিতে কেউ কোনো কাজ করতে পারবে না। তাহলেই ৩০ বছর সময়ের মধ্যে জমির উর্বরতা ফিরে আসবে।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মিজানুল হক জানান, এ ব্যাপারে থানায় কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শিবলী সাদিক জানান, বিষয়টি শোনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

আব্দুর রহমান আরমান/এমএইচআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।