অভিযানের পরও চলছে ভেজাল কারবারের মচ্ছব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৩:৩৬ পিএম, ০১ জুন ২০২১

ক্ষতিকর রঙ আর রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল খাবার জেলি। পরে সেটি বোতলজাত করে শিশুখাদ্য হিসেবে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। সেই জেলি ব্যবহার করে বানানো হয় জেলি পাউরুটি। পরবর্তীতে বিএসটিআইয়ের নকল সিলযুক্ত প্যাকেটে বাজারজাত করে আসছিলেন ভেজাল কারবারিরা।

এসব ভেজাল খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার অন্তত পনেরটি কারখানায়। এসব কারখানায় ভেজাল বিরোধী অভিযান চালিয়েও থামানো যাচ্ছে না কারবারিদের।

এবার চক্রটির বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছেন উপজেলা প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (৩০ মে) সন্ধ্যার দিকে শহরের হামছায়াপুর এলাকায় মডার্ন ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালানো হয়। এসময় খাদ্যপণ্য তৈরিতে ভেজাল ও অন্য কোম্পানির ট্রেডমার্ক ব্যবহার করার দায়ে ওই কারখানার মালিক মজনু মিয়াকে পঁচিশ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এতে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা শারমিন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের হামছায়াপুর গ্রামে মডার্ন ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরি নামের একটি খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিকর রঙ, রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার (জেলি) তৈরি করা হচ্ছিল। এছাড়াও এ প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে বিভিন্ন কোম্পানির ট্রেডমার্ক ব্যবহার করছিল। গোপনে বিষয়টি জানতে পেরে কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত পনেরটি খাদ্যপণ্য তৈরির কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে হাতেগোনা দু-একটি ছাড়া প্রায় সব কারখানাতেই এসব ভেজাল খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে।

মডার্ন ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে সরেজমিনে গেলে সেই চিত্রই পাওয়া যায়। ভেজাল খাদ্যপণ্য তৈরির দায়ে প্রতিষ্ঠানটি জরিমানা গুনলেও সোমবার (৩১ মে) বিকেলে কারখানাটিতে আগের মতোই কয়েকজন নারী-পুরুষ শ্রমিক পচা-বাসি খামিরসহ অন্যান্য উপকরণ দিয়ে যথারীতি পাউরুটি-বিস্কুট তৈরির কাজ করছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিকর রঙ আর রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে তৈরি করছিলেন খাবার জেলি।

jagonews24

কারখানার মালিক শাহাদত হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুধু তার কারখানাতেই জরিমানা করা হয়। অথচ পাশেই আরও দুই কারখানা রয়েছে। খন্দকারটোলা দক্ষিণপাড়াস্থ রূপসী বাংলা ও মদিনা ব্রেড অ্যান্ড বেকারি নামের প্রতিষ্ঠানেও একই কায়দায় এসব খাদ্যপণ্য তৈরি করা হচ্ছে। অথচ সেখানে কোনো অভিযান চালানো হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা শারমিন বলেন, ভেজাল কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হয়েছে। জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

আরএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।