বগুড়ায় দুই সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ
বগুড়ায় দুই সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। কিছুদিন আগেও বাজারে যে পেঁয়াজ ৩০-৩২ টাকায় বিক্রি হতো এখন সে পেঁয়াজের দাম ঠেকেছে ৬০ টাকায়। আমদানি না হলে আগামী সাতদিনের মধ্যে পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকায় পৌঁছে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
জেলা বাজার মনিটরিং সূত্রে বলছে, দেশের সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় পাবনা জেলার সদর, সুজানগর, বেড়া, কাশিনাথপুর উপজেলায়। এছাড়াও নাটোর, কুষ্টিয়া ও রাজশাহী জেলায় পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। তবে এতে দেশের মোট চাহিদা পূরণ হয় না। ফলে ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। এছাড়া মায়ানমার, চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়।
বগুড়ার নাটাইপাড়া বৌ বাজারের কাঁচামাল দোকানি আব্দুল মান্নান বলেন, ঈদের পর থেকে আড়তে গিয়ে ৩০ টাকায় পেঁয়াজ কিনে ৩৫ টাকায় বিক্রি করতাম। বুধবার সকালে ৫৫ টাকায় পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে তাই ৫ টাকা লাভে ৬০ টাকায় বিক্রি করছি। বগুড়ার বকশীবাজার, ফতেহ আলী বাজার, কালিতলা ও খান্দার বাজারসহ ছোটবড় সবগুলো বাজারেই বেড়েছে পেঁয়াজের দাম।
রাজাবাজার পাইকারি আড়তে গিয়ে দেখা গেছে, পেঁয়াজের বিশাল স্তূপ জমে আছে। অথচ আমদানি নেই, সরবরাহ কম, আবহাওয়া খারাপ ইত্যাদি অজুহাতে বাড়ানো হয়েছে পেঁয়াজের দাম।
সুনীল নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন, কাঁচামালের দর ওঠানামা তো করবেই। তাছাড়া সামনে কোরবানির ঈদ। পেঁয়াজসহ মসলার দামতো একটু বাড়তেই পারে।
তবে ক্রেতাদের বক্তব্য প্রতিদিন পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে সিন্ডিকেটের কারসাজি। তাদের দাবি প্রশাসন পাইকারি গোডাউনে কি পরিমাণে পেঁয়াজের মজুদ আছে দেখতে পারে।
ব্যবসায়ীরা জানান, আড়তে পেঁয়াজ আসার পর তিন স্তর পর ভোক্তাদের হাতে পৌঁছায়। বুধবার আড়ৎ থেকে পাইকাররা কিনেছেন প্রতি কেজি ৫৪-৫৫ টাকা দরে, পাইকাররা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন ৫৭-৫৮ টাকা দরে ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করেছেন ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে।
বাজারে কথা হয় বেশ কয়েকজন সাধারণ ক্রেতার সঙ্গে। তারা প্রত্যেকে পাঁচ থেকে ১০ কেজি করে পেঁয়াজ কিনেছেন। এত পেঁয়াজ কেনার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, গত সপ্তাহে পেঁয়াজ কিনেছি ৫০ টাকা কেজি করে। আজ পেঁয়াজ কিনতে হল ৬৫ টাকায়। দোকানদার বলছেন, আগামী সপ্তাহে ১০০ টাকা কেজি দাম হতে পারে। তাই এক মাসের জন্য বেশি করে পেঁয়াজ কিনেছি।
বগুড়া জেলা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, আমদানি করা ১০০ শতাংশের প্রায় ৯৫ শতাংশ পেঁয়াজ ভারত থেকে করা হয়। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে এপ্রিলের শেষে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে পরবর্তীতে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। আর এই কারণে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরএইচ/এমকেএইচ