বিধবা-বয়স্ক ভাতাভোগীদের সিম আটকে দুই হাজার করে টাকা দাবির অভিযোগ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বয়স্ক ও বিধবা ভাতাভোগীদের নির্ধারিত বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকা সিমকার্ড আটক রেখে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিতভাবে এই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের ওই ওয়ার্ডের বয়স্ক ও বিধবাদের নিকট থেকে ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ভাতা কার্ড করে দেয়ার কথা বলে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র জমা নেন এবং ভাতাভোগীর নামের সিম কার্ডে বিকাশ অ্যাকাউন্ট করার জন্য তার বাড়িতে ডাকেন। এরপর তাদের অ্যাকাউন্ট করে দিয়ে সিমকার্ড ও পিন নম্বর নিজের কাছেই রেখে দেন। পরে ভুক্তভোগীরা সিমকার্ড ও পিন নম্বর চাইলে ‘যে সিম জমা দেবে না, তার ভাতাকার্ড হবে না’ বলে হুমকি দেন ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন।
এতে ভুক্তভোগীরা কার্ড পাওয়ার আশায় তার কাছে সিমকার্ড জমা রাখেন। এরপরে তারা জানতে পারেন তারা বয়স্ক ও বিধবা ভাতার তালিকাভুক্ত হয়েছেন এবং সরকারিভাবে তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর তারা আবারও সিমকার্ড ও পিন নম্বর ফেরত চাইলে ওই সদস্য দুই হাজার করে টাকা দাবি করেন। এছাড়া সিমকার্ড ফেরত দেবেন না বলে জানান।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগীরা ৬ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী কুদ্দুছ খান, সাহের আলী, ফজিলা বেওয়া এসব ঘটনা ও অভিযোগ করার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি ওদের কাছে সিমকার্ড চাইনি, ওরাই নিজে থেকে আমাকে বিকাশ অ্যাকাউন্ট করার জন্য সিম জমা দিয়েছে। অনেকে ভুল নম্বর দিয়েছিল, তাই সমস্যা সমাধানে সিমগুলো আমার কাছে ছিল। আমি ওদের সিম নিয়ে যেতে বলেছি।’
জনপ্রতি ২ হাজার করে টাকা দাবি করার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে ২ হাজার করে টাকা দাবি করা হয়নি। আমার বিরোধীপক্ষ ষড়যন্ত্র করে আমার নামে মিথ্যা বলছে। তবে এখানে একটি মসজিদ মেরামতের জন্য আমি নিজে ২০ হাজার টাকা দিয়েছি এবং তাদেরও বলেছি আপনারা যে যা পারেন, কিছু করে টাকা দেন। যাতে সবার সহযোগিতায় মসজিদের কাজ সম্পন্ন হয়।’
এ ব্যাপারে বেরুবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব জানান, ‘সমাজসেবা অফিসের চাপে ওই ইউপি সদস্য ভাতাভোগীদের সিম কার্ড কিনতে বলেন। কিন্তু ভাতাভোগীরা বলেন, আমাদের কাছে টাকা নেই, আপনার টাকা দিয়ে সিম কেনেন, পরে আমরা ভাতার টাকা তুলে টাকা পরিশোধ করবো।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর আহমেদ মাছুম বলেন, ‘তদন্ত করার জন্য সমাজসেবা অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সালেকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ব্যস্ততার কারণে এখনও তদন্ত করতে পারিনি। তবে দুয়েকদিনের মধ্যেই ব্যস্ততা কমে যাবে। এরপর তদন্ত করে ইউএনও স্যারকে রিপোর্ট জমা দেব। তারপর উনি যা ব্যবস্থা নেন, নেবেন।’
মো. মাসুদ রানা/এমএইচআর/এএসএম