প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেলেন প্রতিবন্ধী মাসুদা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৪:৩৬ পিএম, ২০ জুন ২০২১

শরীয়তপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কোটাপাড়া গ্রামের শারীরিক ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মাসুদা বেগম (৪৪) প্রধানমন্ত্রীর উপহারের সরকারি জমি ও ঘর পেয়েছেন। রোববার (২০ জুন) মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর প্রদান কার্যক্রমের দ্বিতীয় পর্যায়ের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উদ্বোধন শেষে শরীয়তপুর সদর উপজেলা সভাকক্ষে প্রতিবন্ধী মাসুদার হাতে ঘরের কাগজপত্র তুলে দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পারভেজ হাসান।

এ সময় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম তপাদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনদীপ ঘরাই, সহকারী কমিশনার সাইফুল ইসলাম, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সামিনা ইয়াসমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

jagonews24

গত ৫ মে ‘প্রতিবন্ধী মাসুদার নিজের কোনো ঘর নেই’ শিরোনামে জাগোনিউজ২৪.কমে ভিডিওসহ সংবাদ প্রকাশ হয়। পরে সংবাদটি জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসানের নজরে আসলে তিনি খোঁজ-খবর নিয়ে প্রতিবন্ধী মাসুদাকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের ব্যবস্থা করে দেন।

স্বামী মো. জলিল ছৈয়াল (৫০), তিন মেয়ে রিমা আক্তার (২৬), কুনসুমা আক্তার (২২) ও নাদিয়া নদী (১২) এবং ছেলে মাসুদ ছৈয়ালকে (১৯) নিয়ে মাসুদার সংসার। এর মধ্যে অনেক কষ্টে বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিয়ের প্রথম তিন বছর শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন মাসুদা। এরপর ধারের টাকার বদলে ভাসুরকে ঘরভিটার জমি ছেড়ে দিতে হয়। তারপর সাত বছর স্বামী-সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়ির একটি ঘরে গাদাগাদি করে থাকতেন মাসুদা। কিন্তু তার ভাইয়েরা বিয়ে করলে ঘরে যায়গা সংকুলান হয় না। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে কাজ করার শর্তে একটি টং ঘরে স্থান হয় মাসুদার পরিবারের। সেখানে থাকেন ১২ বছর। বর্তমানে শরীয়তপুর পৌরসভার পশ্চিম কোটাপাড়ার বাবুল মুন্সীর একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকছেন তিনি। একমাত্র ছেলে মাসুদ ছৈয়াল একটি কোম্পানির ভ্যানচালক।

এর আগে কথা হলে মাসুদা বেগম বলেছিলেন, ‘আমি জন্ম থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাই আমার বাবা মাটিতে গর্ত করে আমাকে দাঁড় করিয়ে রাখতেন। বাবার বাড়ি শরীয়তপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্বর্ণঘোষ গ্রামে। তখন আমার বিয়ের তিন মাস। আমি পান খাব বলে হাতে নিই। স্বামী পান খেতে দেবে না বলে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তখন স্বামীর কনুই লেগে আমার বাম চোখ নষ্ট হয়ে যায়। একদিন বড় মেয়ে রিমা তার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করছিল। আমি ছাড়াতে গিয়ে মেয়ের জামাইয়ের হাতের আঙুল লেগে আমার ডান চোখটাও নষ্ট হয়ে যায়। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি।’

মাসুদা আরও বলেন, ‘স্বামী বর্তমানে মাটির কাজ করেন। কাজের মজুরিও কম। করোনার কারণে কাজও নেই। নেই এক টুকরা জমি, নেই ঘর। তাই ভাড়া থাকি। ছেলে কাজ করে যা পায় তা দিয়ে ঘর ভাড়া দেই।’

এদিকে আজ ঘর পেয়ে আনন্দে আত্মহারা মাসুদা বেগম বলেন, ‘আগে জমি ও ঘর ছিল না। অন্যের বাড়িতে জরাজীর্ণ একটি ঘরে পরিবার নিয়ে থাকতাম। সাংবাদিকরা আমার কষ্ট দেখে সংভাদ করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ঘর দিলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারে আল্লাহ্ ভালো রাখুক। সন্তানদের নিয়ে ঘরটিতে থাকবো। আমি খুবই খুশি।’

jagonews24

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনদীপ ঘরাই বলেন, ‘জাগো নিউজে সংবাদটি প্রকাশ হলে জেলা প্রশাসক স্যারের নজরে আসে। স্যারের নির্দেশে আমি খোঁ-খবর নিয়ে দেখি প্রতিবন্ধী মাসুদা ঘর পাওয়ার মতো। তাই তাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘর দিয়েছেন।’

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার ছয় উপজেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে সরকারিভাবে এক হাজার ২০০টি ঘর হস্তান্তর করা হবে। এর মধ্যে শরীয়তপুর সদরে ১০০টি, নড়িয়ায় ২৮০টি, জাজিরায় ৩০০টি, ডামুড্যায় ৮০টি, ভেদরগঞ্জে ২৪০টি ও গোসাইরহাটে ২০০টি। বৈরি আবহাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে এক হাজার ২০০টি ঘরের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে এর মধ্যে আজ ২২২টি ঘরের মালিকানা হস্তান্তর করা হয়। আধাপাকা প্রত্যেকটি গৃহ নির্মাণে বরাদ্দ ধরা হয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার টাকা। ঘরে দুটি শয়ন কক্ষ, একটি রান্নাঘর, টয়লেট ও একটি বারান্দা রয়েছে। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্যায়ে জেলায় ৬৯৯টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঘর হস্তান্তর করা হয়।

মো. ছগির হোসেন/এমআরআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]