আদালতে ক্ষমা চাইলেন বিচারাধীন বিষয়ে থানায় সালিশ করা সেই ওসি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৭:৪৬ পিএম, ২৪ জুন ২০২১

দেওয়ানি আদালতে বিচারাধীন মামলার বাদী ও বিবাদীপক্ষকে নিয়ে থানায় সালিশের অভিযোগে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন কবির আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যাসহ ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) কুড়িগ্রাম জজ কোর্টের (দেওয়ানী আদালত, নাগেশ্বরী) সিনিয়র সহকারী জজ রবিউল ইসলামের আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন ওসি।

জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী হামিদুল ইসলাম।

এর আগে দেওয়ানি আদালতে বিচারাধীন মামলার বাদী ও বিবাদীপক্ষকে নিয়ে থানায় সালিশ করার অভিযোগে গত ১৫ জুন কুড়িগ্রাম জজ কোর্টের (দেওয়ানী আদালত, নাগেশ্বরী) সিনিয়র সহকারী জজ রবিউল ইসলাম নাগেশ্বরী থানার ওসিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না তারও লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন আদালত।

আদালত সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে ওসি রওশন কবির আদালতে তার লিখিত বক্তব্য জমা দেন। এ সময় আদালত থানায় এ ধরনের সালিশ আয়োজন করা থেকে বিরত থাকতে ওসিকে নির্দেশ দেন।

সূত্র আরও জানায়, লিখিত বক্তব্যে ওসি সালিশ আয়োজনে নিজে কোনোভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে উল্লেখ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকার বিষয়টি তিনি আগে থেকে জানতেন না বলেও দাবি করেন। বরং সালিশে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু বক্কর সিদ্দিক এবং বিবাদীপক্ষের আইনজীবী নাজিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন বলে লিখিত ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন ওসি।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী হামিদুল ইসলাম জানান, ওসি রওশন কবিরের লিখিত বক্তব্য পর্যালোচনা করে আদেশের জন্য আদালত আগামী ২৯ জুন পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন।

প্রসঙ্গত, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নাগেশ্বরী উপজেলার বাসিন্দা শ্রী বীরেন্দ্রনাথ মোদক বাদী হয়ে নাগেশ্বরী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা করেন। এ নিয়ে বিবাদী প্রমোদ গংকে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন আদালত। বিবাদী আদালতে হাজির হয়ে লিখিত আপত্তি জমা দেয়ার জন্য সময়ের প্রার্থনা করলে আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুরের পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বাদীপক্ষের অনুকূলে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেন।

কিন্তু পরবর্তীতে বাদী আদালতে লিখিত অভিযোগ করে জানান, বিবাদী প্রমোদ চন্দ্র গং বিষয়টি থানা পুলিশের মাধ্যমে সুরাহার উদ্দেশ্যে নাগেশ্বরী থানা পুলিশের কাছে গেলে তারা এ বিষয়ে উভয়পক্ষকে ডেকে থানায় সালিশ বৈঠকের অয়োজন করে। এ সময় বাদী থানায় বিচারাধীন মামলার কাগজপত্র দেখালেও পুলিশ তাকে জোর করে বিরোধ মিমাংসার চাপ দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন বাদী বীরেন্দ্রনাথ মোদক। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন আদালত।

মো. মাসুদ রানা/এসএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]