যুবলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে এসি চুরির মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১২:৪৬ পিএম, ২৮ জুন ২০২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আলী আজমের বিরুদ্ধে এসি চুরির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার আটমাস পর সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়ন যু্বলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফ আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

রোববার (২৭ জুন) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আয়েশা বেগম মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানায়, মামলায় আলী আজম ও অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় ইউনিয়ন যুবলীগের কার্যালয়ের এসি চুরির অভিযোগ আনা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের পুলিশ পরিদর্শক কাজী দিদারুল আলম জানান, যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে করা মামলা আদালত আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ৯নং নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের নরসিংসার বাজারে ইউনিয়ন যুবলীগের কার্যালয় অবস্থিত। গত বছরের ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফ মাহমুদ কাজ শেষে কার্যালয় তালাবদ্ধ করে বাড়িতে যান। পরদিন বিকেলে তিনি কার্যালয়ের তালা খুলে দেখেন, সেখানে থেকে একটি এলইডি টেলিভিশন, একটি পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র ও একটি দেড় টনের এসি চুরি হয়েছে। এছাড়াও কার্যালয়ে রক্ষিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও দলিলও পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

এজহারে আরও বলা হয়, মামলার বাদী ও স্বাক্ষীরা চুরি হওয়া মালামালগুলো সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলী আজমের বাড়িতে দেখতে পান। এতে তারা নিশ্চিত হন আলী আজমের সহায়তায় আরও ৫-৬ জন কার্যালয়ের জিনিসপত্র চুরি করেছেন।

এ ব্যাপারে মামলার বিবাদী সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলী আজম বলেন, ‘আমি সেখানে ব্যক্তিগত কার্যালয় স্থাপন করেছিলাম। মূলত ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর জন্যই কার্যালয়টি করা হয়। দলীয় সকল অঙ্গসংগঠনের কাজকর্ম এখানে হতো। কার্যালয়ের টিভি ও এসি আমার টাকায় কেনা। শরীফকে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তিনি নিজেই এসব মালামাল আমার বাসায় দিয়ে যান। এখন আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা মামলা করেছেন।’

পিবিআইয়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাছে আদালত থেকে কাগজ এসে পৌঁছায়নি। মামলার কাগজ আসার পর তা আমরা সদর দফতরে পাঠাই, সেখান থেকে অনুমোদনের পর তদন্ত শুরু করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘পিবিআই সব মামলা গুরুত্ব সহকারে দেখে। কেউ যেন কাউকে ব্যক্তিগতভাবে বা অন্য কোনোভাবে হয়রানি না করতে পারে, সেজন্য বিষয়টি আমরা সাক্ষী প্রমাণের মাধ্যমে উপস্থাপন করে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করি।’

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসএমএম/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।