কুকুরের কামড়ে ছেলের মৃত্যু, সইতে না পেরে মায়ের আত্মহত্যা চেষ্টা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
প্রকাশিত: ১০:১৩ পিএম, ২২ জুলাই ২০২১ | আপডেট: ১০:১৭ পিএম, ২২ জুলাই ২০২১

মাদারীপুরের কালকিনিতে পাগলা কুকুরের কামড়ে নয়ন পাল (৩৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) সকালে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান। এদিকে আদরের বড় ছেলের এ অকাল মৃত্যু সইতে না পেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষপানে তার বৃদ্ধা মা আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন।

নিহত যুবক পৌর এলাকার দক্ষিণ রাজদী গ্রামের গৌতম পালের ছেলে। তিনি উপজেলা সদরের ‘হাওলাদার ফার্মেসি’ নামে একটি ওষুধের দোকানের কর্মচারী ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ দিন আগে বাড়ির সামনে একটি কুকুরকে দেখে নয়ন পাল তাড়া দেন। এতে ওই কুকুরটি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়িভাবে প্রায় ৫/৬টি কামড় দেয়। এতে করে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে সেখানে তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। গতকাল বুধবার সকালে তিনি পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানী মহাখালীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন আজ তার মৃত্যু হয়। এছাড়া ওই একই দিনে কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আরও ১৪ জন আহত হয়েছিল।

এদিকে, সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ও আদরের বড় ছেলের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে তার বৃদ্ধা মা মেঘনা পাল (৬০) বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কালকিনি হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

নিহত নয়ন পালের প্রতিবেশী দিদার হোসেন বলেন, ‘নয়নের মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে তার মা মেঘনা পাল আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। তাকে এখন মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।’

হাওলাদার ফার্মেসির পরিচালক ফারুক আলম খোকন নয়নের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ভুগছিল। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়েছে।’

একে এম নাসিরুল হক/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]