ফরিদপুরে ছাত্রলীগ কর্মীকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শেষে ফেরার পথে লিমন মোল্লা (২০) নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে।
শনিবার (৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার চতুল ইউনিয়নের ধুলপুকুরিয়া গ্রামের দাদুড়িয়া বিলের ফাঁকা রাস্তায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত লিমন মোল্লা উপজেলার কাদিরদী ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও শেখর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলার শেখর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বেলা ১১টায় বোয়ালমারী উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের আয়োজনে পথচারীদের মাঝে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। কর্মসূচি শেষে লিমন মোল্লা তিন বন্ধুর সঙ্গে মোটরসাইকেলযোগে শেখর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে ফিরছিলেন। দুপুর ২টার দিকে পথিমধ্যে চতুল ইউনিয়নের ধুলপুকুরিয়া গ্রামের ডা. দিলীপ রায় হোমিওপ্যাথি কলেজের সামনে পৌঁছলে বোয়ালমারী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আধারকোঠা গ্রামের শাকিল লিমনকে ফোনে জরুরি কথা আছে বলে ধুলপুকুরিয়ার ওই স্থানেই থামতে বলেন।
শাকিল স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র এবং সে লিমনের পূর্বপরিচিত। কিছুক্ষণ পরে জনৈক ব্যক্তিসহ চার-পাঁচজন ভ্যানযোগে এসে লিমনকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যান। হামলায় লিমনের মাথা এবং একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে লিমনের দুই বন্ধু এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি রাখা হয়েছে।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাইম হোসাইন জানান, লিমন মোল্লা নামের একজনকে শরীরে জখম অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার মাথায় ও মুখে ছয়টি স্থানে জখম হয়েছে। সব মিলে জখম স্থানে ৪০টির বেশি সেলাই দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, ছাত্রলীগের এক কর্মীর ওপর হামলার ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে হাসপাতালে ওই ছেলেটির সঙ্গে পুলিশের কথা হয়েছে। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এন কে বি নয়ন/এসআর/এমএস