আ.লীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগে যুবলীগ নেতা আটক
বগুড়ার কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন কবিরাজকে মারধর করেছেন যুবলীগ নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় উপজেলা যুবলীগের এক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) দুপুরে কাহালু পৌর এলাকার উলট্ট মহল্লায় এ মারপিটের ঘটনা ঘটে।
আহত হেলাল উদ্দিন কবিরাজ কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র। আটক যুবলীগ নেতার নাম মেহেদি হাসান রাজিব। তিনি উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল উদ্দিনের অভিযোগ, গত নির্বাচনে যুবলীগের নেতাকর্মীরা নৌকা মার্কার বিরোধিতার করায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মান্নান মেয়র নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর থেকেই যুবলীগের নেতাকর্মীরা পৌরসভার ঠিকাদারি কাজে জড়িয়ে পড়েন। পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল। এমন অভিযোগ পেয়ে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) থেকে সাত সদস্যের একটি তদন্ত টিম সরেজমিনে পরিদর্শনে আসে।
তদন্ত কমিটির প্রধান প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম পরিদর্শন কাজে তাকে উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করতে বলেন। দুপুর দেড়টার দিকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে উলট্ট মহল্লায় সড়ক সংস্কার কাজ পরিদর্শনে যান। সেখানে বর্তমান মেয়র ছাড়াও কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার উপস্থিত ছিলেন।এসময় ঠিকাদারের কাজে অনিয়মের কথা উঠলে পৌর মেয়র যুবলীগ নেতাদের ফোন করে সেখানে আসতে বলেন।
হেলাল উদ্দিন তার কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সেখান থেকে ফিরে আসার সময় হাসপাতালের কাছে যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এসময় যুবলীগ নেতাকর্মীরা তার সাথে থাকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামকে পুলিশের সামনেই মারপিট শুরু করেন। হেলাল উদ্দিন থানার দিকে যেতে থাকলে যুবলীগ নেতাকর্মীরা তাকেও মারধর করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান রাজিবকে আটক করে।
জানতে চাইলে কাহালু পৌর মেয়র আব্দুল মান্নান বলেন, নির্বাচনে পরাজিত হয়ে সাবেক মেয়র হেলাল উদ্দিন কবিরাজ পৌরসভার উন্নয়ন কাজ ব্যাহত এবং স্থগিত করার জন্য বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দেন। তার অভিযোগের কারণে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ পরিদর্শনে আসে। এসময় তিনি বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এনিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়।
কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমবার হোসেন বলেন, পুলিশের সামনে মারধরের ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাস্থল থেকে রাজিব নামের একজনকে আটক করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এসআর