ফরিদপুরে নতুন বিনোদন কেন্দ্র ‘স্বপ্নের ভাসমান রেস্তোরাঁ’

এন কে বি নয়ন এন কে বি নয়ন
প্রকাশিত: ০৩:৪৪ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০২১

হঠাৎ বাজার। পুরো নাম হঠাৎ বাজার বেড়িবাঁধ পোল। ফরিদপুরের সদর উপজেলা চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের দুর্জনখারডাঙ্গি গ্রামে অবস্থিত এলাকাটি এখন মিনি বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখানে প্রধান আকর্ষণ ‘স্বপ্নের ভাসমান রেস্তোরাঁ’।

হঠাৎ বাজারের পাশ বয়ে চলেছে ৪০ ফুট প্রশস্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি খাল। দুই পাশজুড়ে শতাধিক মালিকানাধীন নিচু ফসলি জমি। যাতে শুধু ইরি ও বোরো ধান চাষ হয়। বছরের প্রায় তিন-চার মাস পুরো মাঠ বর্ষার পানিতে টইটম্বুর। এখন বর্ষার ভরা মৌসুমে এলাকাজুড়ে পানি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাকালীন ঘরবন্দি মানুষ আর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা একটু হাফ ছেড়ে বাঁচতে প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিড় করছেন এ জলাধার এলাকায়। প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে জেলা শহর ছাড়াও আশপাশের বিনোদনপ্রেমী মানুষ কেউ গাড়ি নিয়ে আবার কেউ ভ্যান-রিকশা-মোটরসাইকেলে ছুটে আসেন হঠাৎ বাজার বেড়িবাঁধে। স্বপ্নের ভাসমান রেস্তোরাঁয় কিংবা ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে কাটিয়ে দিচ্ছেন পুরো বিকেল।

jagonews24

স্বপ্নের ভাসমান রেস্তোরাঁটির উদ্যোক্তাদের একজন শামীম ব্যাপারী। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, বছরখানেক আগে আমরা ছয়জন মিলে ভাসমান রেস্তোরাঁর ব্যাপারে চিন্তাভাবনা শুরু করি। ৪১টি লোহার ব্যারেল (ড্রাম) দিয়ে এটি তৈরি করতে দেড় মাস সময় লেগেছে। আমরা নিজেরাই এটি তৈরি করেছি। খরচ পড়েছে ছয় লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

তিনি আরও জানান, এটি ইঞ্জিনচালিত। ভেতরে আটটি টেবিল ও ৪০-৫০টি চেয়ার, সিসিটিভি, ফ্রি ওয়াই-ফাই, টিভি, মিউজিক সাউন্ড সিস্টেম রয়েছে। এছাড়া হালিম, ফুচকা, চটপটি, নুডলস, শিঙাড়া, চা, কপিসহ নানা ধরনের খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। আসন সংখ্যা ৪০টি হলেও এর ধারণক্ষমতা ৬০ জনের মতো। ভাসমান রেস্তোরাঁটির ভ্রমণ ফি ৭৫ টাকা। তবে সব খাবারের বিল আলাদা।

রেস্তোরাঁটির আরেক অংশীদার কামাল শেখ জাগো নিউজকে জানান, পুরো জলাধারটির দৈর্ঘ্য প্রায় দুই কিলোমিটার, প্রস্থ আধা কিলোমিটার। পুরো জলাধার দিয়ে প্রতিদিন চারটি ট্রিপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতি ট্রিপের সময় ৪০ মিনিট।

jagonews24

তিনি আরও জানান, প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু থাকে রেস্তোরাঁটি। তবে করোনাকালীন লকডাউনে বন্ধ ছিল। এখন পুরোদমে চালু আছে। খাবার ও ভ্রমণ ফি বাবদ প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।

ভাসমান রেস্তোরাঁটির আরেক উদ্যোক্তা জাহিদ শেখ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, এখানে বিনোদনব্যবস্থা মূলত তিন মাস, অর্থাৎ পানি থাকা পর্যন্ত। এখানে প্রায় ৪০টি ডিঙ্গি নৌকা রয়েছে। নৌকাগুলোতে ঘুরতে প্রতি ঘণ্টায় জনপ্রতি এক থেকে দেড়শত টাকা গুনতে হবে।

এখানে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন রাকিব হোসেন টোকন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। সবমিলিয়ে জায়গাটা ভালোই লাগল।

jagonews24

চরমাধবদীয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মির্জা আজম বলেন, ছয় যুবক মিলে এটা করেছে। খুবই ভালো উদ্যোগ। আমি তাদের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই, সফলতা কামনা করি।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম রেজা জাগো নিউজকে বলেন, শুনেছি খুব ভালো একটি স্পট। তবে করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মাদকসহ অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এন কে বি নয়ন/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]