কুড়িগ্রামে শিক্ষককে অপদস্ত করায় ৪ পুলিশ সদস্যকে অবরুদ্ধ করল জনতা
কুড়িগ্রামের কচাকাটায় এক প্রধান শিক্ষককে অপদস্ত করায় চার পুলিশ সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা।
শনিবার (২১ আগস্ট) জেলার কচাকাটা থানার বলদিয়া ইউনিয়নের বলদিয়া বাজারে ঘটনাটি ঘটেছে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও থানার ওসির উপস্থিতিতে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসা হয়। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে জনতার কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কচাকাটা থানার বলদিয়া ইউনিয়নের উপেন্দ্রনাথ বাবু এবং একই এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে খোকনের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার সকালে উপেন্দ্রনাথ তার দখলীয় জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে খোকন তা বন্ধে পুলিশের সহযোগিতা নেন। এ সময় কচাকাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রবিউল ইসলাম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মশিউর রহমান দুই কনস্টেবলসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চাষাবাদ বন্ধ করে দেন। সেইসঙ্গে উপেন্দ্রনাথ বাবুকে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

তারা বলদিয়া বাজারে পৌঁছালে বলদিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক স্বপন কুমার সরকার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় এসআই রবিউল তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাকে অপদস্ত করেন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে চার পুলিশ সদস্যকে অবরুদ্ধ এবং রাস্তায় ড্রাম ফেলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
খবর পেয়ে বলদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস ছাত্তার ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেনসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমঝোতা করে অবরুদ্ধদের থানায় নিয়ে আসেন।
উপেন্দ্রনাথ বাবু বলেন, আমার দখলীয় জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে প্রতিপক্ষ খোকনের পক্ষ নিয়ে পুলিশ এসে তা বন্ধ করে দিয়ে আমাকে তাদের সাথে থানায় যেতে বলে। পথিমধ্যে প্রধানশিক্ষক বিষয়টি জানতে চাইলে তাকে অপদস্ত করেন এসআই রবিউল ইসলাম। এ সময় স্থানীয়া বিক্ষুব্ধ হয়ে তাদেরকে বাজারে আটকে রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহামুদ হাসান বলেন, এসআই রবিউল প্রধানশিক্ষকে অপদস্ত করে তার স্কুলে তালা লাগানোর হুমকি দেন। সেইসঙ্গে স্থানীদের ঘুম হারাম করে দেয়ারও হুমকি দেন।
অভিযুক্ত এসআই রবিউল ইসলাম বলেন, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ওসির নির্দেশে এখানে দায়িত্ব পালন করতে আসি। এসময় জনগণ সিনক্রিয়েট করে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

প্রধানশিক্ষক স্বপন কুমার সরকার বলেন, আমি পরিচয় দিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে এসআই রবিউল ইসলাম আমার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং উপেন্দ্রনাথের সাথে আমাকেও থানায় যেতে ধমকান। পরে ওসি এবং স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়। এ সময় পুলিশ তাদের ভুল স্বীকার করে।
কচাকাটা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন জানান, জমাজমি নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে জানিয়ে স্থানীয় একজন ফোন করলে চার পুলিশ সদস্যকে সেখানে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলে সামান্য ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি সমঝোতা করা হয়েছে।
এমআরআর