গ্রেফতার কাউন্সিলর মোর্শেদের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৫:১৮ পিএম, ২৪ আগস্ট ২০২১

গ্রেফতার টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা আতিকুর রহমান মোর্শেদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ গুমের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় আরও ৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) সকালে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করেন মোর্শেদের শ্বশুর সৈয়দ শরিফ উদ্দিন। আদালতের বিচারক শামসুল আলম মামলাটি গ্রহণ করে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্তের নির্দেশ দেন।

বিকেলে টাঙ্গাইল আদালতের পরিদর্শক তানবীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কাউন্সিলর ছাড়াও মামলার বাকি অভিযুক্তরা হলেন- টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার মৃত আ. মোমেনের ছেলে মুন্সী তারেক পটন (৪৯), মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে পারভেজ খান রনি (৩৬), সোহেল ওরফে বাবু (২৭), দুলাল সূত্রধরের ছেলে অন্তর সূত্রধর (২৭), আতিকুর রহমান মোর্শেদের প্রথম স্ত্রী সুমা (৪৫), মুন্সী তারেক পটনের স্ত্রী লিনা (৪০), শামীম আল মামুনের ছেলে রাফসান (২৮), মৃত আজিজ মিয়ার ছেলে আয়নাল মিয়া (৪৫)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, কাউন্সিলর মোর্শেদের বাসার সামনের একটি ভবনে সৈয়দ শরিফ উদ্দিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসা ভাড়া থাকতেন। ২০১২ সালের জুনে তার মেয়ে পিংকিকে তুলে নিয়ে বিয়ে করেন মোর্শেদ। কিন্তু দুই স্ত্রী থাকায় পরিবারের সঙ্গে মোর্শেদের ঝগড়া হতো।

২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি রাতে মুন্সী তারেক পটনের বাসায় দাওয়াতের কথা বলে পিংকিকে নিয়ে যান মোর্শেদ। সেখানে সহযোগীদের নিয়ে পিংকিকে হত্যার মরদেহ গুম করেন মোর্শেদ।

দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা সৈয়দ শরিফ উদ্দিন বলেন, আমার মেয়ে পিংকিকে মোর্শেদ জোর তুলে নিয়ে বিয়ে করে। মোর্শেদসহ তার সহযোগীরা আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি তাদের বিচার চাই।

১৯ আগস্ট গোয়েন্দা পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদকে গ্রেফতার করে। তার বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগজিন উদ্ধার করে পুলিশ। ২০ আগস্ট জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোর্শেদকে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ২৩ আগস্ট তিনদিনের রিমান্ড শেষে মোর্শেদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, রিমান্ড চলাকালে মোর্শেদ তার ওই অস্ত্র এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছে। তার দেয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

আরিফ উর রহমান টগর/এসজে/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।