সন্ধ্যায় কাদের মির্জার সহযোগী, ভোরে গ্রেফতার বিরোধী গ্রুপ নেতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০১:৪৬ পিএম, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরোধী গ্রুপের নেতা মাহবুবুর রহমান আরিফকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে চরজব্বর থানার চরবাটা এলাকায় বোনের বাড়িতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম পিপিএম গ্রেফতারের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গ্রেফতার আরিফের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন আইনে আটটি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারের পর নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে সুধারাম থানায় রাখা হয়েছে।

জানা যায়, গ্রেফতার আরিফ কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের ছেলে। তিনি চরকাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সুবর্ণচর উপজেলার সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।

এরআগে বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চরকাঁকড়া এলাকা থেকে কাদের মির্জার ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাজিম উদ্দিন বাদলকে (৪২) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় রাত সাড়ে ৮টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে পুলিশ সুপার এবং ওসিসহ অনেকের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন কাদের মির্জা। বাদলের গ্রেফতারের খবর পেয়ে রাতেই কাদের মির্জার সমর্থকেরা বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় গাছ ফেলে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে তার মুক্তির দাবি করেন।

ফেসবুক লাইভে কাদের মির্জা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এর আগেও ডিবির পরিদর্শক রবিউলের নেতৃত্বে তার অনুসারী নুর হোসেন খানসাবকে গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হয়েছে। বাদলকে কিছু করা হলে পরিণাম ভালো হবে না।

এর ৭-৮ ঘণ্টার ব্যবধানেই শুক্রবার ভোরে কাদের মির্জার বিরোধী গ্রুপের নেতা আরিফকে গ্রেফতার করা হলো।

এদিকে কাদের মির্জার সহযোগীকে গ্রেফতারের বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে জেলা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. রবিউল হক জাগো নিউজকে জানান, নাজিম উদ্দিন বাদলের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ৯-১০টি মামলা রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নিজ এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুগ্রুপে সহিংসতায় এরইমধ্যে দুজন নিহত ও শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। দুই গ্রুপের একটির নেতৃত্ব ওবায়দুল কাদেরের ছোটভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও অপর গ্রুপে নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল।

ইকবাল হোসেন মজনু/এমকেআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।